হরিনার বিলে দেশি মাছের ঝাঁক

জাল ফেলে, বরশি পেতে মাছ ধরার ধুম

জহিরুল ইসলামজহিরুল ইসলাম
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:43 PM, 29 September 2021

ঘুনি, চিকন সুতোর জালে মাছ বাধছে।খোলই ভর্তি মাছ নিয়ে ফিরছেন সৌখিন শিকারিরা

 

দেশি ছোট মাছ।দু’দিনের ভারি বর্ষণে কানায় কানায় ভরে উঠেছে হরিনার বিল। টইটুম্বুর নতুন পানিতে ছুঁটছে মাছে ঝাঁক। এমন সুযোগে চুপটি মেরে বসে নেই শিকারীরর দলও। জাল ফেলে ছিপ পেতে সমানে মাছ ধরে চলেছেন। বিলের জলে ছুটে বেড়ানো দেশি পুঁটি, ট্যাংরা, গুতুম, কাঁচকি, গুচি বাইম, মায়া, টাকি, কই,শোল, সরপুটি উঠছে জাল জুড়ে। বিধছে স্বাদের এসব মাছ শিকারির বরশিতেও।

বিক্রির জন্য পাত্রে রাখা দেশি মাছ।বিল পাড়ে দাঁড়ালে দেখা যায়, দিগন্তু বিস্তৃত হরিনার বিল ভরে উঠেছে পানিতে। কালাবাগা খাল দিয়ে পানির ঢল তীব্র স্রোত তুলে বিলের এপাশ থেকে ওপাশে ছুটে চলেছে। আর এই নতুন পানিতে ছুটছে মাছের ঝাঁক। বিলের পানিতে, খালের  স্রোতে জাল ফেলে চলছে মাছ ধরা। ঘুনি পাশাপাশি মসৃন জাল পেতেও সৌখিন শিকারিরা পানি থেকে মাছ তুলে আনছেন। অনেকে আবার বিলের স্থির পানিতে বরশি পেতে মাছ ধরছেন। আর সাইকেল-মোটর সাইকেল, চার্জার ভ্যান ও ইজিবাইকে চেপে পথ চলতি মানুষ এসব দৃশ্য দেখতে থমকে দাঁড়াচ্ছেন। মাছ শিকারিদের কাছ থেকে দরদাম করে মাছ কিনে ফিরছেন।

গুতুম মাছ।যশোর সদরের চাঁচড়ার বিস্তৃত হরিনার বিল জুড়ে এখন চলছে মাছ ধরার ধুম। খ্যাপলা জালের পাশাপাশি ঘুনি পেতেও ধরা হচ্ছে দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। চিকন সুতার জাল পেতেও চলছে মাছ ধরা। খালই ভর্তি করে বিল থেকে ধরা মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরছে মৎস শিকারীরা। হাড়িতে, মাছ রাখার বড় বড় পাত্রে জিইয়ে রেখে চলছে মাছের কেনাবেচাও।

জাল ফেলে মাছ ধরা।চাঁচড়া থেকে সাঁড়াপোল যেতে কালাবাগায় জাল ফেলে চলছে যেমন মাছ ধরা, তেমনি সমানতালে চলছে মাছের বিক্রিও। সাড়াঘুটোর রাস্তায় ঢোকার মুখে বসে দেশিয় ছোট মাছ বিক্রি চলছে। মাছ ধরার পর বাড়িতে রেধে খাওয়ার মতন মাছ রেখে বাড়তি মাছ বিক্রি করে দিচ্ছেন সৌখিন এসব মাছ শিকাররিরা।
দেখা গেছে, কেজি দরের পাশাপাশি ‘থামকো’ হিসেবে চলছে মাছের বেচাকেনা। ছোট আকৃতির দেশি পুঁটি ১ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। টাকি মাছের কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। গুতুম মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। শোল মাছ আকৃতি ভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। কাঁচকি, কুচো চিংড়ি, মায়া, চান্দা, ছোট পুঁটি মিশ্রিত গুড়ো মাছের কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা।
কালাবাগায় ঘুটো রাস্তার মোড়ে মাছ বিক্রি করছিলেন তারাপদ সরকার। আলাপচারিতায় জানান, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় বিলের পানি বেড়েছে। তাই বিল জুড়ে বেড়েছে মাছের আনাগোনা। তিনি বলেন, জাল ফেলে বেশ কিছু মাছ ধরেছেন। আর পেতে রাখা ঘুনিতেও অনেক মাছ বেধেছে। বাড়ির জন্য কিছু মাছ রেখে বাকীগুলো বিক্রি করতে বসেছেন।

এখান থেকে মাছ কিনছিলেন আতাউর রহমান। চাঁচড়ার ভাতুড়িয়ার এই বাসিন্দা জানান, বিলের আগের সেই অবস্থা এখন আর নেই। বর্ষা মৌসুমসহ বৃষ্টি-বাদলার দিনগুলোয় আগে বিলে প্রচুর মাছ মিলত। এছাড়াও সারা বছরই বিল থেকে মাছ ধরা পড়ত। কিন্তু ধান চাষাবাদে বিষ ও সার ব্যবহারের কারণে বিলের ছোট প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়। দেশি মাছের প্রাচুর্য এখন হরিনার বিলে নেই বললেই চলে। তারপরও এখনও বিলে পানি বাড়লে স্বাদেভরপুর সব ছোট মাছ অল্পবিস্তর পাওয়া যায়।

জাল ফেলা র প্রস্তুতি।

প্রতিবেদন লেখক:জহিরুল ইসলাম জিতু

আবুল কালাম নামে আরেক ব্যক্তি দরদাম করে মাছ কিনছিলেন। তিনি জানান, যশোর শহর থেকে কাজ সেরে এই পথ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। দেশি ছোট মাছ দেখে তার চোখ আটকে গেছে। দেশি পুঁটি, টাকি ও কইসহ বেশ কিছু মাছ কিনেছেন। তিনি বলেন, সদ্য ধরা ও তরতাজা এরকম দেশি মাছ পাওয়াই এখন কঠিন। তাই বাড়ির জন্য বেশ কিছু মাছ কিনে ফিরছেন।

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :