সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা লুটপাট সম্পদ লুন্ঠনে মসজিদের মাইকের ব্যবহার কেন ?

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:04 PM, 23 March 2021

এবিসি নিউজ:গোটা বিশ্বে এমন একটি দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ভাংচুর লুটপাট করার জন্য মসজিদের মাইক থেকে আহবান জানানো হয় ?
বাংলাদেশে প্রথম শুরু হয়েছিল যুদ্ধাপরাধী মাও. সাঈদির বিরুদ্ধে আমৃত কারাদন্ডের রায় ঘোষণার পর। তাকে চাঁদে দেখা গেছে হুজুগ তোলা হয়েছিল।
সেদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা লুটপাট ভাংচুরে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য মসজিদের মাইক থেকে গ্রামবাসীকে আহবান করা হয়েছিল।
একই ঘটনা ঘটেছিল যশোরের মণিরামপুরে। আসামি ধরাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করেছিল। পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল কিন্তু ব্যর্থ
হয়ে থানায় ফিরে গিয়েছিল।
তারপর মসজিদের মাইক থেকে ভুয়া খবর প্রচার করে দলীয় সন্ত্রাসীদের জড়ো করে বেছে বেছে আওয়ামী লীগ পরিবারের ওপর হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছিল। সেদিন অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন।
আজও ২২ মার্চ আসলে ক্ষতিগ্রস্তরা আৎকে ওঠেন। পরে আ’লীগ ক্ষমতায় আসলেও ওই পরিবারগুলোকে কোন রকম সহযোগিতা করা হয়নি।

সুনামগঞ্জের শালায় হিন্দু বাড়িঘরে হেফাজত কর্মীদের হামলা লুটপাট

সর্ব শেষ সুনামগঞ্জের শাল্লায় মসজিদের মাইক থেকে গ্রামবাসীকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর তান্ডব চালানোর আহবান জানায়। তারপরই হেফাজতের মামুনুল হকের অনুসারীরা নারকীয় তান্ডবে অংশ নেয়।
ফেসবুকে একটি পোস্ট করা নিয়ে আগের রাতেই উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে পারে আশঙ্কা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ফেসবুকে পোস্ট করা যুবককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সেদিন রাতে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও থানার ওসি উত্তেজিত নুনুভুতিদের সাথে বৈঠক করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় সকালে তারা একটি শান্তিপুর্ণ
সমাবেশ করবেন।
এই একই সিদ্ধান্ত হয়েছিল ভোলার চরফ্যাশানে। কিন্তু সেদিন তারা কথা রাখেনি। গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়ে প্রাণ যায় ৬ জনের।
হিন্দু বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা চলেছিল কিন্তু তার বিচার আজও হয়নি।
ভোলার ঘটনাটি স্মরণে রেখে সুনামগঞ্জের প্রশাসন ও অসম্প্রদায়িক চেতনার মানুষগুলো যেকোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারতেন কিন্তু না, তারা নিরব ছিলেন।
দেশবাসী কী দেখললেন ? দেখলেন শাল্রায় মামুনুল হকের অনুসারী দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হুংকার ছুড়ে ঝাপিয়ে পড়লো হিন্দু পল্লীতে।
গণমাধ্যমের কাছে অনেকে অভিযোগ করেন, ঘটনার খবর পাওয়ার অনেক পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে !!
কিন্তু কেন ?
তাহলে কী বলতে পারি সাঈদি-মামুনুল হকদের অনুসারীরা
প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তারা উগ্রবাদকে মনে প্রাণে ধারণ ও লালন পালন করেন।
তাও ঘটনাটি কবে ঘটলো ?
১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে।
অথচ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এনিয়ে কোন টু-শব্দ করেনি।
তারমানে বঙ্গবন্ধু কী এরকম একটি দেশ দেখতে স্বাধীনতা এনেছিলেন ?
অথচ আমরা কী দেখছি এই উগ্রবাদীচক্র স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়্ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে আসছে।
এরা কী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন নাকি পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে রাজাকার আল বদর আলম সামস গঠন করে স্বাধীনতাকামীদের হত্যা ধর্ষণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছিল ?
আজ তাদের হাবভাবখানা এরকম দেশটা তারা স্বাধীন করেছে।
কিন্তু এভাবে দেশ চলতে পারে না। পৃথিবীর যেকোন দেশের জন্ম ইতিহাসের সাথে বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস মেলে না।
সুতরাং কথায় কথায় কেউ যদি বাংলাদেশের সাথে পৃথিবীর অন্য কোন দেশের তুলনা করেন তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অভিযোগ আছে এই মামুনুল হকরা বেড়ে উঠেছে আ;লীগ সরকারের পৃষ্টপোষকতায়!
যদি তাই হয়, তাহলে কথায় কথায় কেন বলা হয় আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ?

সম্পাদকীয়

আপনার মতামত লিখুন :