শুক্রবার শুরু হচ্ছে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

ঢাকা অফিসঢাকা অফিস
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:37 PM, 21 April 2022
ফাইল ছবি

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর শুক্রবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে বসবেন আবেদনকারী প্রার্থীরা। তৃতীয় ধাপে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবারের মতো এবার ৬০ শতাংশ মহিলা কোটা বহাল রাখা হয়েছে। 

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) থেকে তিন ধাপে শিক্ষকদের এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহকারী শিক্ষকের ৩২ হাজার ৫৭৭টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির বাস্তবতায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে অবসরজনিত কারণে আরো ১০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। এতে করে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা পাঠদান কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।

‘এ সমস্যা নিরসন করতে আগের বিজ্ঞপ্তির পরের শূন্যপদ মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ২২ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে, তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া, ৬১ জেলায় শুরু হতে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, ২২ এপ্রিল প্রথম ধাপে পরীক্ষা হবে ২২ জেলায়। এর মধ্যে ১৪ জেলার সব ও ৮ জেলার আংশিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা হবে ২০ মে। এ ধাপে ৩০ জেলার মধ্যে ৮ জেলার সব ও ২২ জেলার আংশিক পরীক্ষা হবে। আর তৃতীয় ও শেষ ধাপের পরীক্ষার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে এ ধাপে পরীক্ষা হবে ৩১ জেলায়। এর মধ্যে ১৭ জেলার সব ও ১৪টিতে হবে আংশিক পরীক্ষা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। এতে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭০১টি। এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন। তিন ধাপে মোট এক হাজার ৮১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা পরিচালনার জন্যই ৩ ধাপে আয়োজন করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৯ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগে ৬০ শতাংশ থাকবে মহিলা কোটা, ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা এবং ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা (সাধারণ কোটা)। আর সব কোটাতে বিজ্ঞান বিভাগ বিষয়ে ২০ শতাংশ কোটা আছে। অর্থাৎ প্রতিটি কোটা থেকে যারা নির্বাচিত হবেন তাদের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসতে হবে।

কোটার বিষয়টি পরিষ্কার করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, এটি ২০১৯ সালের নিয়োগবিধি। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগ অন্য চাকরির মতো নয়। এটি ট্রাডিশনালি হয়ে আসছে। সরকার যদি বিবেচনা করে, সরকার ইতোমধ্যে অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে বিবেচনা করেছে।

আমরা নিয়োগবিধি করার সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছিলাম, অন্য কোটা বাদ দেয়ার সময় আবার মতামত নিয়েছিলাম, তারা বলেছে যে নিয়োগবিধি অনুযায়ী করবেন। তবে সরকার যে কোটাগুলো তুলে দিয়েছে, সেগুলো এখানে প্রযোজ্য হবে না।

নিয়োগবিধি পরিবর্তন বা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে এমন প্রশ্নে মহাপরিচালক বলেন, আইন তো যুগের প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য। সরকারের যদি পলিসি সিদ্ধান্ত হয়, সে ক্ষেত্রে সেটি ভবিষ্যতের বিষয়।

প্রথাগত কোটায় পর্যাপ্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে সাধারণ কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ উপজেলায় নিয়োগ হয়। সেই উপজেলায় কোটা সীমাবদ্ধ থাকে।

যেসব জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে:

চাপাইনবাগঞ্জ, মাগুরা, শেরপুর, গাজীপুর, নরসসিংদী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, লক্ষীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট জেলার সব উপজেলার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আর যশোর জেলার ৪ উপজেলা (ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মণিরামপুর, শার্শা), সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী, কামাখন্দ, কাজীপুর, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা, ঝোবাউড়া, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও, গৌরিপুর, হালুয়াঘাট, ঈশ্বরগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া, বারহাট্টা, দূর্গাপুর, কমলকান্দা, কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, ভৈরব, হোসেনপুর, ইটনা, করিমগঞ্জ, কটিয়াদি, টাঙ্গাইল জেলার সদর, ভূয়াপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ি, ঘাটাইল, গোপালপুর, কুমিল্লা জেলার বরুয়া, ব্রাক্ষণপাড়া, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, সদর, মেঘনা, দাউদকান্দি, নোয়াখালি জেলার কবিরহাট, সদর, সেনবাগ, সোনাইমড়ি, সুর্বনচর উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :