যশোর জেলা ছাত্রলীগ সেক্রেটারীর হাতে যুবক খুন

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:08 PM, 15 March 2019

অমিয় বিশ্বাস:যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল ইসলাম জিসান ও তার সহযোগীদের দাবিকৃত দুই লাখ টাকা চাঁদা দিতে না পারায় প্রাণ দিতে হলো সাজু চৌধুরী (২৫) নামে এক ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির। জিসান গাড়ি থেকে লোহার    নিহত সাজু

পড়ুন>>>যশোরে হামলায় জখম যুবকের মৃত্যু:পরিবারে শোকের মাতম

বের করে সাজুর মাথায় আঘাত করে। এ সময় তার সহযোগীরা বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে হতভাগা দরিদ্র সাজুকে। নিহতের পর পরিবার ও কোতয়ালী মডেল থানার ওসি একই দাবি করেছেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানান, বুধবার রাত ১১টার দিকে শহরের বিমান অফিস মোড়ে সাজু চৌধুরীকে মারপিট করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত সাজু চৌধুরী শহরের পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকার স্বপন চৌধুরীর ছেলে।

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি অপূর্ব হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার রাতে শহরের বিমান অফিসের সামনে সাজু চৌধুরীর মাথায় আঘাত করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিসান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাজু চৌধুরী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সাজুর বড় ভাই রাজু চৌধুরীর অভিযোগ, বুধবার রাতে সাজু ওষুধ আনার জন্য চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে (বিমান অফিস মোড়) যায়। এ সময় তার ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিসান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহতের পিতা স্বপন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ লাইন টালিখোলায় ভাই ভাই নামে সাজুর একটি ওয়েল্ডিং কারখানা আছে। তার দুই ছেলে ওই কারখানাটি চালায়। যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসান সাজুর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় বুধবার রাতে জিসানের নির্দেশে পাভেল, রাব্বি ও জনিসহ ৮-১০ জন ক্যাডার সাজুর ওপর হামলা করে। পরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলের পাশে আলোচিত এই ছাত্রলীগ নেতার ৫মতলার একটি ভবন রয়েছে। ভবনটির ৫মতলাকে টর্চার রুম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সূত্রমতে, ভবনটির আশপাশে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি রয়েছে। থানা পুলিশ ফুটেজ সংগ্রহ করে সাজুকে কে কিভাবে পিটিয়েছে তার প্রমাণ পেয়েছে।

এদিকে দলের কয়েকটি সূত্র জানায়, এটিই প্রথম হত্যা না। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে আলোচিত এই ছাত্রলীগ নেতা খড়কীর শুকুর নামে আ’লীগের এক কর্মীকে বাড়ি থেকে ডেকে এমএম কলেজের আসাদ হল ক্যাম্পাসে নিয়ে হাঁটুতে ড্রিল মেশিন দিয়ে ফলা ঢুকিয়ে জখম করে। তার দুই পায়ের নিচেই হাতুড়ি পেটাও করে। পরে যশোর আড়াইশ বেড হাসপাতালে শুকুরের মৃত্যু হয়। শুকুর তৎসময়ের আ’লীগের এমপি টিটু অনুসারী নামে পরিচিতি ছিল।

সূত্রমতে, ওই হত্যাটি ছিল নামের জাহির করার জন্য। তাছাড়া আসাদ হলসহ এমএম কলেজে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে চাঁদাবাজি ছিল ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মীর প্রধান টার্গেট। তাছাড়া জেলা ছাত্রলীগে গুরুত্বপুর্ণ পদ পাওয়ার জন্য আলোচনায় আসার টার্গেট ছিল জিসানের। এরবাইরে শুকুরকে হত্যা করার মতো কোন কারণ ছিল না। কারণ শুকুর বড়ধরণের কোন ঘটনার সাথে জড়িত ছিল তা কেউ বলতে পারে না। নিচ্ছক নাম জাহির করতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শুকুর শিশুপুত্রের জনক ছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তর সংবাদ ছেপেছিল দৈকি যুগান্তর। যদিও শুকুরের পরিবার বিষয়টি নিযে বেশিদুর এগুতে পারেননি। শুকুরই ছিল তার পিতার একমাত্র সন্তান। দরিদ্র পিতা কোন ধরণের সহযোগীতা না পেয়ে মামলা করেও পরে পিছু হটেন।

এদিকে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সাজু হত্যার বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

কোতয়ালী মডেল থানার একজন কর্মকর্তা জানান, তিনি কোন দল বা কোন পদে আছেন তা বিবেচনা করা হবে না। তাকে গ্রেফতারে অভিযানে আছে একাধিক পুলিশ দল।

 

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :