যশোর-কলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন ‘বন্ধন’র যাত্রা শুরু

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:00 PM, 07 March 2019

এবিসি নিউজ: অবিভাক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোর জংশন থেকে ঐতিহাসিক মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে যাত্রী নিয়ে ভারতের কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে গেল যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেস। এ সময় যশোর রেল স্টেশনে উৎসুক জনতার ভীড় জমে। এ সময় অনেকেই বলেন টানা ৫৪ বছর পর যশোর-কলকাতা ট্রেনের যাত্রা শুরু খুবই আনন্দের।

পড়ুন>>>বৃহস্পতিবার থেকে যশোর-কলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন

যশোর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে ৩১ জন যাত্রী নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করে ট্রেনটি। প্রায় দেড় বছর আগে খুলনা-কলকাতা রুটে যাতায়াত শুরু করলেও এদিন থেকেই যশোরে যাত্রাবিরতি শুরু করলো ট্রেন বন্ধন’। প্রতি বৃহস্পতিবার চলাচলকারী এই ট্রেনটি যাতায়াতের পথে যশোরে ৩ মিনিট যাত্রাবিরতি করবে বলে জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায় ভারতের সঙ্গে যশোরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ। ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস নামে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকেই যশোরে যাত্রাবিরতির দাবি উঠে।
যশোর রেলওয়ে জংশনের ম্যানেজার পুষ্পল কুমার চক্রবর্তী জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার কলকাতা-খুলনা রুটে চালুকৃত ট্রেন যশোরে ৩ মিনিটের যাত্রা বিরতি করবে। যা আজ থেকে শুরু হলো। এই জংশনের জন্য ২০০টি সিট বরাদ্দ আছে। প্রথমদিন ৩১টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে এসি কেবিন ৭টি, এসি চেয়ার ২৪টি।
তিনি আরও বলেন, কোলকাতাগামী যাত্রীদের জন্য ওয়েটিং রুমসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর থেকে জংশনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কলকাতার যাত্রী ও তার স্বজন ছাড়াও উৎসুক জনতার ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ৫৪ বছর পর যশোর জংশন থেকে কলকতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন দেখতে এত মানুষের ভিড়। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা কলকাতাগামী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেসের অপেক্ষায় ছিলেন যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার আফরোজা বেগম। তিনি জানান, পরিবারের সাত সদস্যের সঙ্গে কলকাতায় যাচ্ছেন। অপেক্ষায় আছেন কখন ট্রেন আসবে।
আফরোজা বেগম বলেন, আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। আজকের এই দিনে যশোর থেকে কলকাতা ট্রেন যাত্রা শুরু হলো। এটি যশোরবাসীর জন্য গর্বের। তিনি নিজেও খুব খুশি। তিনি একদিনের পরিবর্তে দুইদিন ট্রেন সার্ভিস চালুর দাবি জানান।
আরেক যাত্রী যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানও কলকাতাগামী ট্রেনের যাত্রী। তিনি বলেন, যশোর থেকে ট্রেনে কলকাতায় যাচ্ছি। এটা ভাবতেই ভাল লাগছে। ট্রেনের টিকিটের দাম একটু কমালে ভাল হতো। আশা করি এই সার্ভিস জনপ্রিয় হবে।
কলকাতাগামী ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নন্দিত উদ্যোগে বৃহত্তর যশোরবাসীর জন্য খুবই উপকার হলো। এই জংশনে যাত্রীদের ওয়েটিং রুম নেই। জংশনকে আধুনিকায়ন করে সেবার মান আরও বাড়াতে হবে। তাহলে আরও জনপ্রিয় হবে। বর্তমানে দু’শ সিট বরাদ্দ আছে। আমি মনে করি আগামি ৬ মাসের মধ্যে এখানে যাত্রীর সংখ্যা ৫শ’ হবে। ট্রেনে কোন লস হবে না। এজন্য রেলের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হতে হবে।
রেল স্টেশনের টিকিট কালেক্টরেট সাহিদা বেগম বলেন, ৩৫ বছর ধরে রেলে চাকরি করছি। দেশের অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রা বিরতি ও ছেড়ে যাওয়ার সময় মাইকে ঘোষণা করি। এবারই প্রথম কোন বিদেশগামী ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও ছেড়ে যাওয়া ঘোষণা করলাম। এটা আমার কাছে খুব ভাল লাগছে।

এদিকে উৎসকু জনতার মধ্যে রহিম নামে এক ব্যক্তি জানান, দির্ঘদিন পর যশোর-কলকাতা রেল চলাচল দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও ব্যবসা বাণিজ্যকে এগিয়ে নেবে।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :