যশোরে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত শিশুর প্রাণ, ডে শিফটের সময় পরিবর্তনের দাবি

এবিসি নিউজ>এবিসি নিউজ>
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:12 PM, 18 June 2022
ফাইল ছবি

ঈদের ছুটি কাটিয়ে শিক্ষালয়ে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। ইউনিফর্ম পরিহিত শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীদের প্রদচারণায় সারাদেশের মতো মুখর এখন যশোরের প্রতিনিটি শিক্ষাঙ্গন। শুরু হয়েছে সশরীরে পাঠদান। শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের মধ্যে দেখা মিলেছে চিরচেনা দৃশ্যের। রীতিমত উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তবে কাঠ ফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত অবস্থায় পড়ছে ডে শিফটের শিক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকরা। বিশেষ করে হাঁসফাঁস অবস্থা হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। ডে শিফটের সময় সূচিতে পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছেন অনেক অভিভাবক।

 

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষ হয় ১১ মার্চ। ১২ মার্চ স্কুল খুলেছে। জেলার এক হাজার ২৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অভিভাবকরাও বেজায় খুশি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুল আলম জানান, বৈশি^ক মহামারি করোণার কারণে ২৩ দফা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয়। ৫৪৩ দিন দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর। কিন্তু করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’র দাপটে ২১ জানুয়ারি থেকে ফের এক মাস বন্ধ থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও পুরোদমে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, শিশুরা স্কুল ড্রেস ও কাঁধে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে স্কুল আসছে। শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে থাকছেন অনেক অভিভাবক। প্রসঙ্গত, পুরোদমে ক্লাস শুরু হলেও মাহে রমজান ও ঈদে ছুটির ফাঁদে পড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। গত ১২ মার্চ ফের স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

অন্যদিকে জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৫২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে স্কুলে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। পাঠদান নিয়মিতকরণে শিক্ষা কর্মকর্তারা স্কুল পরিদর্শন করছেন।

 

যশোর ইন্সটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে ফারহান। স্কুলে এসতে পেরে খুব খুশি এই শিক্ষার্থী। সে জানায় ডে শিফটে ক্লাস শুরু হয় ১২ টায় এবং ছুটি হয় বিকেল ৪ টায়। প্রখর রোদ ও গরমে চরম কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে বলে জানায় ফারহান।

 

নিলিমা রায় নামে এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে পড়ে কালেক্টরেট স্কুলে। প্রভাতী শিফটে পড়ার কারণে তার বাচ্চার কষ্ট কম হচ্ছে। তবে ডে শিফটে যারা পড়ছে তাদের কাঠ ফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা হচ্ছে। তিনি বলেন, সময়টা ঘন্টাখানেক এগিয়ে আনলে শিশুদের কষ্ট কম হতো। প্রভাতী শিফটে ক্লাস শুরু হয় ৯টায়। ছুটি হয় সাড়ে ১২টায়। এ সময়টা শিশুদের জন্য খুবই ভাল-মন্তব্য নিলিমার।
যশোর এমএসটি স্কুলের এক শিক্ষার্থী নাম বলতে নারাজ। সে জানায় দ্বিতীয় শিফটে পড়ি। ছুটির পর বাড়ি ফিরে বড্ড ক্লান্ত লাগে। বিকেলে পড়তে মন বসে না। তার দাবি, ডে শিফটের সময় সূচিতে পরিবর্তন করা উচিত। অস্বস্তিকর গরমে অনেক শিশু জ¦রসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানায় এই শিক্ষার্থী।

 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :