যশোরসহ দেশজুড়ে দাপুটি বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টি

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:53 AM, 03 April 2019

এবিসি ডেস্ক: যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে যশোরে প্রবল বেগে যেমন ঝড় হয়েছে, তেমনি শিলা বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সাথে এত বড় বড় শিল পড়েছে, যা অনেকের টিনের ছাউনি ছিদ্র হয়ে গেছে। শুধু যশোর না, বজ্রঝড় ও শিলা বৃষ্টি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় এলাকাতে হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে বৈশাখের শুরুতেও এমন আবহাওয়া থাকবে।ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষায় আগাম প্রস্তুতি নিতেও বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আজ বুধবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রঝড় ও শিলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

>>>ঝড়ে প্রাণ গেল এক নারীসহ ৪ জনের

বাংলা পঞ্জিকার চৈত্রের শেষার্ধ আর বৈশাখের প্রথমার্ধ মিলিয়ে এপ্রিল মাস। এ মাসে দুই থেকে তিনটি তীব্র কালবৈশাখী, পাঁচ-ছয়দিন বজ্রঝড় এবং দুয়েক দফা তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক।

তিনি বলেন, এপ্রিল-মে মাসের উষ্ণ আবহাওয়ায় কালবৈশাখী, বজ্রঝড়ের অনুকূল পরিবেশ থাকে। বিশেষ করে উত্তর-উত্তর পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে কালবৈশাখীর দাপট বেশি। এমন সময়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানো ও ঘন ঘন বজ্রপাতের মত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এ সপ্তাহের রবি ও মঙ্গলবার দুই দফা কালবৈশাখী বয়ে গেছে। মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে রোববার ঢাকায় ভবন থেকে ইট পড়ে দুজন, দেয়াল ধসে একজন এবং গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া বুড়িগঙ্গায় নৌকা ডুবে মারা গেছেন দুজন। সেদিন ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যায়। আর মঙ্গলবার ঢাকায় ঝড়ের বাতাস ছুটেছে ঘণ্টায় ৪২ কিলোমিটার বেগে।

এপ্রিলের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস জানিয়ে আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ মাসে সাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ।

দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চলে দুই বা তিনটি তীব্র কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। ঝড়ের পর উত্তর-উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে বয়ে যেতে পারে দুই দফা মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ।

থার্মোমিটারের পারদ চড়তে চড়তে যদি ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, আবহাওয়াবিদরা তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলেন।

উষ্ণতা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করে আবহাওয়া অফিস।

আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এবার গ্রীষ্মের শুরুতে তাপপ্রবাহের সময় উষ্ণতা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গতবছর এপ্রিল মাসজুড়ে ছিল কালবৈশাখী ঝড় আর বজ্রপাতের দাপট। মাসের শেষ দুদিনেই বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে মারা যান অন্তত ৩৩ জন।

তার আগে ২০১৭ সাল জুড়েই ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, অস্বাভাবিক মাত্রায় বজ্রপাত, অতি ভারি বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধসের মত একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয় দেশ।

বুধবারও ঝড়-শিলাবৃষ্টির আভাস

আবহাওয়ার বুধবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এদিন ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে হতে পারে শিলা বৃষ্টি।

নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে বুধবার পশ্চিম/উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে তে পারে।

এসব এলাকায় নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আর অন্যান্য জায়গায় ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যতে পারে।

অকাল এই ঝড় বৃষ্টি থেকে রক্ষায় আগাম প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :