মোরেলগঞ্জে বড়ভাইকে হত্যায় নেতৃত্ব দেয় ছোটভাই

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:52 PM, 04 April 2019

>>>মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে যায় মাঠে
>>>পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে সহযোগী
>>>মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ছোটভাই বুকে চেপে বসে গলা কাটে
মোরেলগঞ্জ সংবাদদাতা: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে করাতকল শ্রমিক কাবুল মোল্লা (৪৮) হত্যা মিশনে অংশ নেয় কাবুলের ছোট ভাই বাবুল মোল্লাসহ একই এলাকার ৩ জন। পরিকল্পনায় আরো কেউ জড়িত থাকলেও সরাসরি হত্যায় বাবুলের সাথে অংশ নেয় মুন্না খান ও বাচ্চু হাওলাদার। আটকের পর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার কাছে এ কথা স্বীকার করেছেন তারা। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার কাবুল মোল্লা হত্যা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা বাগেরহাট পিবিআই’র এসআই শাহিদুর রহমানের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তিনি বলেন, পিবিআই দু’মাসের তদন্তে কাবুল মোল্লার খুনিদের সনাক্ত করে। গত মঙ্গলবার রাতে বরিশাল থেকে তিন খুনিকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র।

পিবিআই’র জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল, মুন্না ও বাচ্চু জানায়, আলতিবুরুজ বাড়িয়া গ্রামের রব শিকদারসহ কয়েকজনের সাথে জমি ও পোলেহাট বাজারের দোকানের জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিল কাবুল মোল্লাদের সাথে। এই বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে লাশের প্রয়োজন ছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নামে এরা তিন জন।

লাশের প্রয়োজন মেটাতে প্রথমে মুন্না জানায়, তার পরিবারে লাশ বানানোর মত কেউ নেই। তখন বাবুল মোল্লা তার বড়ভাই কাবুলকে টার্গেট করে। এতে রাজি হয় মুন্না ও বাচ্চু। ২০ জানুয়ারি সন্ধারাত ৭টার দিকে বাবুলই কাবুলকে ফোন করে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে নেয় বাড়ির অদূরে মাঠের মধ্যে। সাথে মন্টু খানের ছেলে মুন্না ও আব্দুল মজিদ হাওলাদার ওরফে কালু দফাদারের ছেলে বাচ্চু।

সেখানে কথা বলতে বলতে পিছন থেকে রড় দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কাবুল। এরপর ছোটভাই বাবুল কাবুলের বুকের ওপর চেপে বসে। চাপাতি দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় কাবুলের। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় ৩ সন্তানের পিতা করাতকল শ্রমিক কাবুল মোল্লাকে।

ঘটনার ২দিন পর ২২ জানুয়ারি নিহত কাবুলের পিতা গফফার মোল্লা শত্রু পক্ষের ৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৩। ২৮ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় বাগেরহাট পিবিআইর হাতে। পিবিআই দুই মাসেই আবিষ্কার করে খুনের রহস্য। গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় প্রকৃত খুনিদের। এই মামলার এজাহার নামীয় ৪ আসামির ৩ জন দীর্ঘদিন ধরে জেল হাজতে আছেন। এরা হচ্ছেন, একই গ্রামের আব্দুর রব শিকদার, খবির মোল্লা ও ফেরিওয়ালা নুরুল ইসলাম।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :