বনানীর আগুনে ‍পুড়ে মৃত্যু যশোরের জারিন ও কুষ্টিয়ার মিঠুর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:35 PM, 29 March 2019

এবিসি ডেস্ক: যশোর শহরের বেজপাড়ার মেয়ে জারিন তাসমিম ও কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরবানিয়াপাড়া গ্রামের ইফতেখার হোসেন মিঠর বাড়ি স্বজনদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। কোনভাবেই থামছে না স্বজনদের কান্নার রোল। শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রতিবেশিদের মধ্যেও। এ দু’জন প্রাণ হারিয়েছেন বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিকান্ডে। পড়ুন>>>বনানীর আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫: হাসপাতালে ৭৫

আজ ২৯ মার্চ তাদের লাশবাহী এম্বুলেন্স গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণার সৃষ্টি হয়।

এদিকে শেখ জারিন তাসমিমের মরদেহ যশোর শহরের কারবালা গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে লাশবাহী গাড়ি সরাসরি বেজপাড়া মেইন রোডের বাড়িতে আসে। এ সময় স্থানীয়রা জারিনের স্বজনদের সাথে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত জারিন বেজপাড়ার ব্যবসায়ী শেখ মোজাহিদুল ইসলামের মেয়ে। মেয়ের পুড়া মরদেহ আসছে যেকোন মুহুর্তে সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন স্বজনরা। লাশবাহী গাড়ি বাড়ির সামনে পৌছুলে প্রিয় মেয়ের শোকে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। সেখানে যশোরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবি লোকজন এক নজর দেখতে ভীড় করেন । এসময় জারিনের পরিবারকে সমবেদনা জানতে গিয়ে অনেকেই কেদে ফেলেন।

এর আগে যশোর পুরাতন বাসটার্মিনাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুম্মাবাদ প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর আসরবাদ বেজপাড়া জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আসরবাদ জানাজা শেষ কারাবালা গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।  পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের পুরাতন কসবার কাজী ইরাদের ছেলে কাজী সাদ নূরের সাথে তিন বছর আগে জারিন তাসমিমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা খিলগাঁও থাকতেন।ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বৃষ্টি মানবসম্পদ বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন বনানীর এফ আর টাওয়ারের ইইউআর সার্ভিস বিডি লিমিটেডে।

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, ঢাকার বনানী এফআর টওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কুমারখালী উপজেলার চরবানিয়াপাড়া গ্রামের ইফতেখার হোসেন মিঠর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় মিঠু’র মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌছলে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরাসহ এলাকাবাসী। নিহত মিঠুর মুগ্ধ নামের একটি ৪ বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। মিঠুর স্ত্রী আশা খাতুন জানান, ২২ তলা টাওয়ারে কর্মরত ছিলেন তার স্বামী। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় প্রয়োজনীয় কাজে ১১তলা ভবনে যান। এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ড শুরু হলে মিঠু ফোনে জানান বিপদে আছেন, তার জন্য দোয়া করতে বলেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম এই সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। আজ বাদ জুম্মাহ জানাজা শেষে বানিয়াপাড়া গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ঢাকার এফআর টাওয়ারে যে ২৫জন নিহত হন তারমধ্যে যশোর শহরের বেজপাড়ার শেখ জারিন তাসমিম ও কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরবানিয়াপাড়া গ্রামের ইফতেখার হোসেন মিঠুর মৃত্যু হয়।

মিঠু ৩ বছর ধরে ওই ভবনের ২২ তলায় প্যাডেস্ক নামে একটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড কুরিয়ার সার্ভিস শাখায় প্যাকেজিং’র কাজ করতেন। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ২৫জনের মধ্যে এ দুজনের একই পরিনতি বরন করতে হয়েছে।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :