নির্বাচনে বিএনপি’র শোচনীয় ভরাডুবির নেপথ্য কারণ

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:39 AM, 21 October 2020

সুনীল ঘোষ:সব পর্যায়ের নির্বাচনে বিএনপি’র শোচনীয় ভরাডুবির জন্য সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ দায়ী না।

শোচনীয় এই বিপর্যের জন্য দায়ী নির্বাচন বয়কটের নামে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে আগুন জ্বালিয়ে মানুষ হত্যা সর্বোপরী ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে-পরে জ্বালাও পোড়াও রাস্তার ওপর ঘর বানানোসহ দেশজুড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি।

সেইসব ঘটনায় তৃণমূলের যেসব কর্মী সমর্থক মামলার শিকার হয়েছিলেন তাদের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, বিএনপি ফেরারী হওয়া এসব নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজখবর পর্যন্ত নেয়নি।

অথচ এসব মামলার শিকার কর্মী সমর্থকদের বিশ্বাস ছিল এবং তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন বিপদে আপদে দলের শীর্ষ নেতাদের পাশে পাবেন। তাদের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা বিএনপি নেতারা দিতে পারেনি। উল্টো তাদের গরু ছাগল হাঁস মুরগী স্বর্ণালঙ্কার অনেকের ভিটে বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে মামলা লড়তে হয়েছে।
তারপর যা হয়েছে,
দলীয় আইনজীবী ফিস কম নেয়া বা ফ্রি মামলা লড়ার পরিবর্তে গলাকাটা ফিস আদায় করে তৃণমূলের এসব নেতাকর্মীদের পঙ্গু করে দিয়েছেন-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী অনেকের।
উপরে উল্লেখিত কারণে কর্মী সমর্থকদের মনই ভেঙ্গে যায়নি, এর প্রভাব ফেলেছে সমমনা সাধারণ মানুষের মনেও।
তারা বুঝে নিয়েছে বিপদ আপদে নিজের সম্পদ খুইয়ে রক্ষা পেতে হবে,
দলকে পাশে পাওয়া যাবে না।
যেকারণে এখন দলের কোনো পর্যায়ের নির্দেশনায় সাড়া দিচ্ছে না তৃণমুলের কর্মী বাহিনী।
অথচ এই কর্মী বাহিনীই সাধারণ ভোটারদের নির্বাচনের মাঠে টেনে আনতেন।
এখন দলের জন্য কোন রকমের ঝুঁকি নিচ্ছেন না তারা।
যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের শূন্য পদে উপনির্বাচনে যে ভোট পড়েছে এবং বিএনপি প্রার্থী যা পেয়েছেন তা পর্যালোচনা করে দেখা যায় বিএনপির মাত্র ৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।তারমানে কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনের মাঠেই আসেনি।
পাইকগাছা ও শরণখোলা  উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনের ভোট পর্যালোচনা করলে বুঝা যাবে বিএনপি’র সাংগঠনিক অবস্থা চরম নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।
পাইকগাছার নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন আমি নিজে ভোট দেইনি এবং নির্বাচন পরিদর্শনেও যাইনি’।
শরণখোলায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী।
তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬শ’র কিছু বেশি।
এদিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সরকারের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা নিতে চাই’।
কিন্তু দলটির সাংগঠনিক যে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে তা গত বেশকিছু নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এখন মধ্যবর্তী, অন্তবর্তি বা সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচন হলেও বিএনপি’র কর্মী সমর্থকরা যে মাঠে নামবে না তা বেশ বুঝা যাচ্ছে।
এরমানে বিএনপি’র সমর্থক যে একেবারেই নেই তা নয়।
দেশে আওয়ামী বিরোধী ভারত বিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম না। কিন্তু তাদের পার্সেন্টস যাইহোক বিএনপির ওপর তারা আস্থা রাখতে নারাজ।
কারণ একটাই বিপদে দলটি কর্মী সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে বার বার ব্যর্থ হয়েছে।
তাদের এই ব্যর্থতার দায় কোনভাবে আওয়ামী লীগ বা সরকারের ওপর বর্তায় না।

সম্পাদকীয়

আপনার মতামত লিখুন :