ছেলের বান্ধবীকে বিয়ে করে নতুন সংসার উপজেলা চেয়ারম্যানের

প্রথম স্ত্রীর দাবি ট্রাফে ফেলে ঝুলে পড়েছে কলেজ তাহমিনা

সাতক্ষীরা ব্যুরোসাতক্ষীরা ব্যুরো
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:29 PM, 28 April 2022
ছেলের বান্ধবীকে উপজেলা চেয়ারম্যানের বিয়ে

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটেছে। ছেলের বান্ধবী বিএল কলেজের ছাত্রী তাহমিনা আক্তার রিনাকে বিয়ে করেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী। তিনি বিভিন্ন সময় অস্বীকার করা এই উপজেলা চেয়ারম্যানের একটি দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

তাছাড়া এবার  উপজেলা চেয়ারম্যান স্বীকারও করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তাহমিনা আক্তার মিনা (২২)। তিনি মৌতলা ইউনিয়নের আব্দুল মাজেদের মেয়ে। বর্তমানে তহমিনা আক্তার মিনা খুলনা বিএল কলেজের শিক্ষার্থী।

কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী মৌতলা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরকারি কোয়ার্টারে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে। দ্বিতীয় স্ত্রী তহমিনা ছিলেন সাঈদ মেহেদীর প্রথম স্ত্রীর ছেলে অনিক মেহেদীর বান্ধবী।

২০১৮ সালে তহমিনা ও অনিক মৌতলা শিমুরেজা এমপি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

কোয়ার্টারের আশপাশে বসবাসরত অনেকে জানান, ‘কয়েক মাস ধরে উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টারের ভেতরে এক তরুণী মেয়েকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। রাতের বেলা মেয়েটির চিৎকার ও সাঈদ মেহেদীর গালিগালাজের শব্দ শোনা যায়।’

বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী বলেন, সরকারি কোয়ার্টারে তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাহমিনা থাকেন। তাকে ৪ বছর আগে বিয়ে করেছি-যোগ করেন তিনি।

কোয়ার্টারে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মারপিট ও গালিগালাজের বিষয় জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘পারিবারিক বিষয় নিয়েও আপনার সঙ্গে বলতে হবে নাকি? বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।’

উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রথম স্ত্রী লাভলী পারভীন জানান, ‘তার স্বামীকে ট্রাপে ফেলে বিয়ে করেছেন তাহমিনা। এখন সে উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টারে অবস্থান করছে।’ বুড়োর গলায় ঝুলে পড়েছে আমার ছেলের বান্ধবী।

কালিগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবার বিয়ে করেছেন এমন খবর আমার জানা নেই।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ সালে সাতক্ষীরা শহরের একটি আবাসিক হোটেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সদর থানায় মামলা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর বিরুদ্ধে। সেই মেয়েটির বাড়ি আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকায়।

স্থানীয়দের দাবি তিনি প্রেমের নাটক করে বহু অপকর্ম করেছেন কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় পার পেয়ে যান।

আপনার মতামত লিখুন :