বন্দুকযুদ্ধে হত্যা অস্ত্রগুলি মাদক উদ্ধার শুধুই নাটক মাত্র!

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:43 AM, 11 August 2020

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কলাচোর ধরেও গাজা ইয়াবা ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে সত্যি সত্যি উদ্ধার হলেও মানুষ প্রথমেই সন্দেহের তীর ছুঁড়ে দেবে।
কুড়িগ্রামের সেই আরডিসি যশোরের মণিরামপুরের নাজিম সাংবাদিককে মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে এনে মদ ও গাজা উদ্ধার দেখিয়ে সাজা দিয়ে সমালোচনার শীর্ষে উঠেছিলেন। সেই সময় সর্বমহলের প্রতিবাদেরমুখে ডিসি-আরডিসিসহ নাটক মঞ্চায়নের সাথে জড়িতদের প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
সেই বিতর্কিত আরডিসি মণিরামপুরের কুলাঙার নাজিমকে গতকাল ১০ আগস্ট চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।সম্প্রতি কক্সবাজারে ইয়াবা কারবার ও কথিত বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ রাশেদ সিনহা।
সবশেষে টেকনাফ থানার (বর্তমানেরপ্রত্যাহার ও পরে বরখাস্ত) ওসি প্রদীপ দাসের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন সিনহা। এই সাক্ষাতকারই সিনহার জীবনে কাল হয়ে যায়।
কক্সবাজার এসপি মাসুদের সাথে পরামর্শ করে ওই রাতেই সিনহাকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।
এখানেও গাজা ও ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হয়।
আর এই নৃশংসতার সূত্রধরে একের পর এক টেকনাফের ওসি প্রদীপ দাস ও উখিয়া থানার ওসি মর্জিনার ক্রসহত্যা বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়ে পড়েছে।
দুই ওসি উখিয়ার এক ইউপি মেম্বারকে ঘুম থেকে তুলে ক্রসে হত্যার ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
কিন্তু ঘুষ নিয়েও তাকে বাঁচতে দেয়নি। গুলি করেই তাকে সরানো হয়েছে।
এদিকে ওসি প্রদীপ দাসের নেতৃত্বে ১৪৪টি ক্রসফায়ার সংঘঠিত করে অনন্ত ২০৪ জনকে হত্যা ও তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে মাদক ও ভাঙাচুরা অস্ত্রগুলি উদ্ধার দেখানো হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব নৃসংশতার খবর বিশেষ গুরুত্বের সাথে ছাপা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, এসব খুনি পুলিশের কথোপকথনের অডিও ভিডিও পর্যন্ত ভেসে বেড়াচ্ছে প্রচার মাধ্যমে।
এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়িয়েছে যে সত্যি সত্যি মাদক অস্ত্র উদ্ধার হলেও আমজনতা তা বিশ্বাস করবে না।
এসব নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও মানবাধিকার কমিশনের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
সচেতন মহল বলছেন, যেহেতু কথিত ক্রসফায়ার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার ঘটনাকে আমজনতা নাটক হিসেবে বিবেচনা করছেন তাই সময় এসেছে সরকার প্রধানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
প্রত্যেকটি ঘটন অটন সর্বোপরী নৃশংস হত্যাকান্ডগুলোকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করানো আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
আশা করি খোদ রাষ্ট্র প্রধান বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন

শীর্ষ খবর

আপনার মতামত লিখুন :