বিউটি দাশের কবিতা-বিধাতা নেমে এসো তুমি

170

Last Updated on

হে বিধাতা নেমে এসো তবে তুমি

এই মর্তে,

প্রার্থনায় নয় নারীর–অার্তচিৎকারে।
নামতে লজ্জা কিসের তোমারই সৃষ্টিতে তোমাতে,
আমি নিঃসংকোচে দাঁড়াব তোমারই সম্মুখে।
আমার ৬ মাসের শিশু, শত বছরের মাতার পক্ষ থেকে,
নেমে এসো তবে তুমি, এসো নেমে।
কেন বলে কর্ম-পাপের ফলে এই তোমারই নারী?
আমিও তবে তোমার মুখোমুখি দাঁড়াতে রাজি।
যে নারী নিঃস্বার্থে ভালোবেসে সমাজে পতিতার বেশে,
নেমে এসো তুমি, এসো দাঁড়াতে চাই তাঁর পাশে।
নেমে এসো তুমি,
নির্লজ্জতার প্রশ্ন নিয়ে দাঁড়াব আমি।
আর কত নিষ্পাপ নারীকে ফেলবে তুমি বলিদানে?
মনে কি পরে তোমার সংহিতারে?
তুমিও তো নিয়েছিলে জন্ম এই মর্তে নারীর গর্ভে।
এসো তবে আজ করবে গঙ্গার স্নান আমার/ নারী রক্তে।
বিনা অপরাধে দিতে হয়নি কি কোন নারীকে বলীদান?
তোমার পরম ভক্ত মাতা তুলসীর তব অবদান।
তোমারই তো সখী না দ্রৌপদী?
ভরাসভায় জ্ঞানী গুণী- ধর্মজ্ঞানী কি দিয়েছে তাঁকে পদবী?
আছে তো অনেক গাঁথা ইতিহাসে আঁকা,
ক’টা সাদা কাগজে-লিপিবদ্ধে তাঁরা।
তোমার কি নাই কোনো দায় মাতৃগর্ভের তবে,
এসেছিলে নাকি এই মর্ত্যে নারীর গর্ভ বিনে?
এই সমস্ত বলিদান নারীর অসহ্য, যন্ত্রণার চিৎকার শুনতে ব্যর্থ কেন
তবে তোমার হৃদয়- কর্ণ।
ধর্ম যুদ্ধে মনে অাছে দ্রৌপদীর বলিদান!
সখা ছিলে যাঁর ধর্মের জন্য তবু নিলে কি মর্মাঘাত প্রতিদান।
কোথায় তোমার আজ জয় সেই ধর্মের?
যে ধর্মের জন্য সপ্তরথী একসাথে- নিল বলী অভিমন্যুর!
যা হয়নি মহাভারতে,
তা হচ্ছে আজ বিশ্ব থেকে পুণ্যভূমি ভারতে।
রূপ ধরে এসো পারছি না আর,
যাঁদের চরিত্র বিনা অপরাধে- কলংকিত তুলসী থেকে মাতা সীতার।
অগণিত-অসংখ্য কর্মধারী নারীর বিনা কলংকের ভার,
কোনো যন্ত্রণা হয় না কি তোমার?
নেমে এসো এসো নেমে তুমি,
মুখোমুখি দাঁড়াতে চাই তাঁদের পক্ষ – আমি।