মহেশখালীতে জ্যান্ত পুঁতে ফেলার হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সংখ্যালঘু দুই শিক্ষক

94

এবিসি নিউজ : কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাটিতে জ্যান্ত পুঁতে ফেলার হুমকিতে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে সংখ্যালঘু দুইটি হিন্দু পরিবারের গৃহকর্তাদ্বয় ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। বুধবার বিকেলে কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মহেশখালী পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা দুই শিক্ষক প্রবীর দাশ ও সমীর কান্তি দাশ (সহোদর) তাদের পিতার রেখে যাওয়া ভিটাবাড়ি জবর দখলের বিবরণ সাংবাদিকদের সম্মুখে তুলে ধরেন।

জানা যায়, প্রয়াত রায় মোহন দাশের পুত্র শাপলাপুরের দিনেশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর দাশ বলেন, জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, অভাব, অনটন ও দারিদ্রতাকে মোকাবেলা করে এসে বর্তমানে ভূমিদস্যুদের আক্রোসের শিকার হতে হচ্ছে। আমরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তান। মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ হিন্দুপাড়ায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ভিটায় আমরা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছি। ভিটাটি একটু নীচু হওয়ায় তিনমাস আগে ভরাট করে কাঁচা ঘর তৈরি করার সময় মঙ্গলবার সকালে মহেশখালী পৌর মেয়র মকসুদ মিয়ার উপস্থিতিতে একদল সন্ত্রাসী আমাদের জমিতে এসে আকস্মিকভাবে ভাংচুর চালায়। কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এ জমির বিপরীতে আমরা নিয়মিত ভূমিকর এবং পৌরকরও পরিশোধ করে আসছি।

স্কুল শিক্ষক সমীর দাশ এ বিষয়ে মেয়রের কাছে জানতে চাইলে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুঙ্কার দিয়ে বলেন, পুনরায় ঘর তৈরি করলে মাটিতে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হবে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়া করা হবে। এরপর মেয়র ও সন্ত্রাসীরা নানাভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। গোরকঘাটাস্থ জেটিঘাটে অবস্থিত সংখ্যালঘু পরিবারের প্রতিষ্টানগুলো এবং গোরকঘাটা বাজারের দোকানগুলো বন্ধ করার এমনকি তালা লাগিয়ে দেয়ারও হুমকি দেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, মেয়র মকসুদ মিয়ার ছত্রছায়ায় থেকে একদল সন্ত্রাসী ক্ষমতার অপব্যবহার করে হিন্দুদের জমিগুলো দখল করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক সমীর দাশ মকসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত জিডি নিয়ে মহেশখালী থানায় গেলে ওসি জিডিটি এন্ট্রি করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানমাল-সহায় সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান শিক্ষক প্রবীর দাশ বলেন, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষ। কোনোরকম ঝক্কিঝামেলা, ফ্যাসাদ-বিবাদে কারো সঙ্গে জড়াতে চাই না এবং শান্তিপূর্ণভাবে সকলের সঙ্গে সহাবস্থান করতে চাই। মেয়রের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীদের হুমকিতে বর্তমানে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এসব জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, মহেশখালী উপজেলার যুদ্ধাপরাধী তালিকার ২২নং আসামি হাশেম সিকদার ওরফে বড় মোহাম্মদের ছেলে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকসুদ মিয়া। মকসুদ মিয়ার বাবা শান্তি কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার চাচা মৌলভী জাকারিয়া সিকদার ওই কমিটির সভাপতি ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। এছাড়া ১৯৭১ সালে হিন্দু সম্প্রাদায়ের ওপর তাণ্ডবলীলা চালিয়েছেন ওই পরিবারের কমপক্ষে ৯ জন সদস্য।