Logo

২৭ নভেম্বর নারী গণসমাবেশ উপলক্ষ্যে প্রগতিশীল নারী সংগঠন সমূহের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত


  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:15 AM, 27 November 2020

নারীর ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে কাল শাহবাগে নারী গণসমাবেশের আহ্বান করেছেন নারীসংগঠন সমূহের নেত্রীবৃন্দ ৷

সারাদেশে নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা-ধর্ষণ, নারী-শিশু নিপীড়ন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রগতিশীল নারী সংগঠনসমূহের ডাকে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে নারী গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র নারী সেল, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, শ্রমজীবী নারী মৈত্রী, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, নারী সংহতি, বিপ্লবী নারী ফোরামের নেতারা বক্তৃতা করবেন।

আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নারী গণসমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে প্রগতিশীল নারী সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সারাদেশে ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন এক ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়ন ঘটে চলছে। একটা ঘটনা বর্বরতায় ও বিভৎসতায় আগেরটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। ঘরে, বাইরে, পাহাড়ে, সমতলে, পথে, গণপরিবহনে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল স্থানেই নারী-শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশে চলছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। নারী-শিশু ধর্ষণ-নির্যাতনের ১০০টি মামলার ৯৭টির কোন বিচার হয় না। সর্বোচ্চ আদালত ধর্ষণকারীকে শাস্তি না দিয়ে ধর্ষিতার সাথে বিয়ের রায় দিচ্ছে। বিচারহীনতার রেওয়াজে ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সমাবেশ সফল করতে হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশ স্থলে বেলা ৩টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর সাড়ে ৩টায় শাহবাগ থেকে মিছিল শুরু হয়ে বাটা মোড়, গাওছিয়া, নিউমার্কেট, কাঁটাবন হয়ে শাহবাগে এসে সমাবেশে মিলিত হবে। ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সারাদেশ থেকে নারী প্রতিনিধিরা এই নারী গণসমাবেশে শামিল হবেন ৷

 এ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রগতিশীল নারী গণসংগঠনসমূহ লিখিত বক্তব্যে নিম্নোক্ত ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন- 
১। সারাদেশে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৩। হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে।
৪। সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করতে হবে। বাংলাদেশকে সিডো সনদের ২ এবং ১৬-১ (গ) ধারা স্বাক্ষর করে সিডো সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।
৫। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন-১৮৭২-১৫৫(৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।
৬। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।
৭। তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৮। ধর্মীয়সহ সকল ধরনের সভা-সমাবেশে নারী বিদ্বেষী সংবিধানবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা বন্ধ করতে হবে। পর্ণগ্রাফি নিয়ন্ত্রনে বিটিসিএল এর কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সুস্থধারার সাংস্কৃতিক চর্চা সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
৯। সারাদেশে মাদক বন্ধে সরকারিভাবে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।
১০। পাঠ্যপুস্তকে বিদ্যমান নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।
১১। গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

বাংলাদেশের প্রগতিশীল নারী সংগঠনসমূহ ধারাবাহিক লড়াই সংগ্রামের অংশ হিসেবে উপরোক্ত দাবিসমূহ নিয়ে আগামী ২৭ নভেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টা শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে নারী গণসমাবেশের আহ্বান করেছে বলে জানায়। নারী নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে উক্ত সমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়।

আপনার মতামত লিখুন :