দেবোত্তর সম্পদ বেদখল চলছে,অভিযোগ হিন্দু পরিষদের


  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:26 PM, 20 January 2021

এবিসি নিউজঃ যেন থামার কোন নাম নেই! সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পদ বেদখল। অথচ বাংলাদেশ বিশ্বমানচিত্রের একটি অনন্য অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে বিশ্বমহলে সুপরিচিত। দীর্ঘ ০৯ (নয়) মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা একটি স্বাধীন দেশ লাভ করেছি, পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকারের বর্ণনা থাকলেও দীর্ঘযুগ ধরে দেশের বেদখলকৃত দেবোত্তর সম্পত্তিকে দখলমুক্ত করায় কোন আশানুরুপ পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি বরং প্রতিনিয়ত ছদ্মবেশী ভূমিদস্যুদের দ্বারা জোরপূর্বক দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখল করা হচ্ছে।

দেবোত্তর সম্পত্তি আইন বিবৃত যে, দেবোত্তর সম্পত্তি হলো কোন ব্যক্তি তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি স্বেচ্ছায় কেবলই দেবতার সন্তুষ্টিলাভ ও পুণ্যলাভের উদ্দেশ্যে দেবতাকে একটি চিরস্থায়ী দান বা অর্পণ, যার একমাত্র মালিক বা বৈধ সত্ত্বাধিকারী কেবল আরাধ্য/বর্ণিত দেবতাই। দেবোত্তর সম্পত্তি কেহ কোনকালে বিক্রয় বা হস্তান্তর করতে পারেনা কিংবা পারবেনা, রাষ্ট্রীয় এমন আইনী বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়তই দেবোত্তর সম্পত্তিকে নামে-বেনামে বিক্রয়, ভূমিদস্যু দ্বারা জবরদখল, কখনোবা সরকার কর্তৃক নামমূল্যে (এক টাকা) অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তরসহ নানাবিধ বেআইনী অবৈধ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ধর্মীয় পূণ্যভূমি রক্ষার স্বাধীনতা পরিপন্থী তথা ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ আগ্রাসনের শামিল। “বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ” এসকল ধর্মীয় স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও অবৈধ কার্যক্রমের নিন্দা প্রকাশ করছে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ সরকারের ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর সংসদে পাশকৃত “হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১৮” এ দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার ও সংরক্ষণের দায়িত্ব হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উপর অর্পিত হলেও অদৃশ্য কারণে একের পর এক দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কার্যত কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। যা ভবিষ্যতে দেশকে হিন্দু শুন্য করার একধরণের পায়ঁতারা।
জীবিত বা মৃত পূণ্যার্থী কর্তৃক আরাধ্য দেবতার উদ্দেশ্যে চিরস্থায়ীভাবে দানকৃত সম্পত্তি একধরণের রাষ্ট্রীয় আমানত, রাষ্ট্রীয় আমানত রক্ষা একমাত্র রাষ্ট্রেরই নৈতিক দায়িত্ব। তাই রাষ্ট্রীয় প্রচলিত আইন ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালীসহ ইসলাম ধর্মীয় সম্পত্তি রক্ষায় গঠিত বোর্ড “ওয়াকফ্” এর ন্যায় হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় একটি স্বতন্ত্র বোর্ড/প্রতিষ্ঠান গঠন এবং বেদখলকৃত দেবোত্তর সম্পত্তি পুনুদ্ধারের জোর দাবী জানাচ্ছি।

নিবেদক

সাজন কুমার
প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ
মোবাইলঃ ০১৭১২-৮৮৬৩৭৭

আপনার মতামত লিখুন :