মূক-বধির শিশু আকাশের চিকিৎসার ভার নিলেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ

53

এবিসি নিউজ : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের মাত্র আট বছর বয়সী শিশু আকাশ। দেখতে শুনতে আর দশটা শিশুর মতই দেখতে। মুখে সারাক্ষণ হাসি লেগেই থাকে। হৃদয়টা তার ঐ নীল আকাশের মতই বিশাল। কিন্তু আকাশ তার চারপাশের পৃথিবীটা ভাল করে বুঝতে পারেনা। নিজের মনের ভাবটিও সঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারে না।

জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের শ্রী গোপাল রামের এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বড় সন্তান হলো আকাশ। আকাশের বাবা শ্রী গোপাল রাম জুতো সেলাই করে সংসার চালায়। মাসে আয় হয় পাচ-ছয় হাজার টাকা মাত্র। জমি বলতে অন্যের ২ শতকের মাটিতে কোন রকমে ঘর তুলে মাথা গুঁজে চলা আর কি।

আকাশের বয়স যখন প্রায় এক বছর, তখন আকাশ শুধু দুটো শব্দ বলতে পারতো – বাবা আর মা। কিন্তু ধীরে ধীরে আকশের বাবা-মা টের পেল যে আকাশ কানে কম শুনতে পাচ্ছে। অভাবের সংসার, তাই আকাশের চিকিৎসা হলো না প্রায় পাঁচ বছর। এতে আরো বেশি ক্ষতি হলো আকাশের। আকাশ ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেল। কথা বলাটিও আর শেখা হলো না তার।

কয়েক বছর আগে শ্রী গোপাল রাম বহু কষ্টে অল্প কিছু টাকা জমিয়ে আকাশকে রংপুর নিয়ে গিয়েছিল বড় ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু সেখানে ডাক্তাররা যেই চিকিৎসার কথা জানালেন, তা করানোর মত সামর্থ নেই শ্রী গোপাল রামের। তাই ছেলের আর চিকিৎসা হলো না। আকাশ ফিরে এলো জলঢাকাতে কোন চিকিৎসা ছাড়াই।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশনের জলঢাকা কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় বসে শ্রী গোপাল রাম তার জুতো সেলাই-এর কাজ করে। আকাশও মাঝে মাঝে বাবার সাথে এসে বসে থাকে। ফাউন্ডেশনের সভাপতি ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ জলঢাকা সফরে এলেই কার্যালয়ে প্রবেশের মুখে আকাশ তাঁকে দেখেই হাসি দিয়ে স্যালুট দেয় না বুঝেই। একদিন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আকাশের সাথে কথা বলতে চাইলে, ফাউন্ডেশনের কর্মীরা জানালো যে আকাশ মূক ও বধির।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আকাশের চিকিৎসার কাগজ-পত্র দেখতে চাইলেন আকাশের বাবার কাছে। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ফাউন্ডেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছোট্ট আকাশের চিকিৎসার সকল দায়ভার গ্রহণ করার। আকাশের পৃথিবীটা যেন আর সকলের মতই সহজ-সাবলীল হয়ে ওঠে তার জন্য ফাউন্ডেশন আকাশকে ঢাকায় এনে তার চিকিৎসার সকল দায়িত্ব হাতে নিয়েছে।