বিসিবি পরিচালকদের একহাত নিলেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি

27

সাকিব আল হাসানের পর এবার বিসিবি পরিচালকদের একহাত নিয়েছেন মাশরাফি। একেকজন বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ পদ অধিকার করে থাকলেও ক্রিকেটের জন্য তাদের কি সামান্যতম অবদান আছে? ক্রিকেট দলের সঙ্গে বিশাল বহর নিয়ে বিদেশ সফর, মিডিয়ার কাছে আভ্যন্তরীণ বিষয় ফাঁস করা আর ক্রিকেটারদের তীব্র সমালোচনা ছাড়া অধিকাংশ বোর্ড পরিচালকের কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না ম্যাশের। আজ অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-কে দেওয়া সাক্ষাতকারে এসব বলেন সাবেক অধিনায়ক।

ড্রেসিংরুম কিংবা বোর্ডের আভ্যন্তরীণ গোপনীয় আলোচনাও বারবার মিডিয়ায় চলে আসে। যা ক্রিকেটারদের জন্য ভীষণ অস্বস্তিকর। এতদিন বোর্ড কর্তারা বলতেন মাশরাফিই নাকি এসব গোপনীয় কথা বাইরে রটাতেন। তবে মাশরাফি ক্রিকেট ছাড়ার পরেও সেই ধারা অব্যাহত আছে। যে কারণে সাকিব সেদিন প্রশ্ন তুলেছিলেন, এখন কীভাবে ভেতরের কথা বাইরে যায়? আজ ম্যাশ বললেন, বোর্ডের লোকজনই ভেতরের কথা মিডিয়াকে বলে ক্রিকেটারদের চরিত্রহননের চেষ্টা করেন!

মাশরাফির ভাষায়, ‘আগে আমি কোনোদিন বিশ্বাস করিনি। করতে চাইওনি। কিন্তু আমি যখন জানতে পারলাম, যেসব মিডিয়ায় ফোন করেছে, ইংল্যান্ডে বসে (২০১৯ বিশ্বকাপের সময়) আমাদের বোর্ড পরিচালকদের দুজনের তথ্য আমি জানি, কোনো কোনো (টিভি) চ্যানেলে ফোন করে তারা বলেছেন, “এটিই সুযোগ, আমাদের সামনে সুযোগ আসছে। মানুষের সামনে মাশরাফিকে কালার করে দেন, ভিলেন বানিয়ে দেন।” আমি উনাদের নাম বলব না, দুজনের নামই জানি। আরও আছে কিনা আল্লাহ জানেন। তারা বিভিন্ন মিডিয়ায় ফোন করে বলেছেন, “সুযোগ আসছে, মাশরাফিকে নিয়ে নিউজ করে দেন। বাদ দিয়ে দেবে।” তবে মিডিয়া আমার প্রতি সদয় ছিল।’

দেশের সফলতম এই অধিনায়ক আরও বলেন, বিভিন্ন ট্যুরে ঝাঁকে ঝাঁকে বোর্ড পরিচালকেরা যান। সেখানে গিয়ে আনন্দ ভ্রমণ আর ক্রিকেটারদের সমালোচনা করা তাদের কোনো কাজ নেই। বোর্ড পরিচালকেরা যখন ম্যাশকে নিয়ে মিডিয়ায় রটনা করছিলেন, তখন দলের বাকি ক্রিকেটাররা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তারা ভাবছিল, মাশরাফিকে নিয়ে এটা হতে পারলে আমাদের ক্ষেত্রে কী হতে পারে! ম্যাশের মতে, বোর্ড পরিচালকদের বোঝা উচিত ক্রিকেটারদের কারণেই তারা ওইসব পদে বসতে পেরেছেন।

ম্যাশ বলেন, ‘প্রায়ই আপনারা শোনেন যে ক্রিকেটারদের পরিবার সফরে যায়, ক্রিকেটারদের পরিবারকে কি বোর্ড টাকা দিয়ে নেয় নাকি? পরিবারকে ক্রিকেটাররা নিজেদের টাকায় নেয়, ফ্রি নয়। পরিবারের জন্য বাড়তি ভাতাও দেওয়া হয় না। বরং ক্রিকেট বোর্ড থেকে যারা সফরে যায়, তারা ৫০০ ডলার করে ভাতা পায় বলে শুনেছি। সেখানে ক্রিকেটাররা ট্যুর ফি ও অন্যান্য মিলিয়ে পায় হয়তো ১০০ ডলার। আপনি আছেন কোথায়? যাদের কারণে আপনি আরাম-আয়াশে আছেন, তাদেরকেই মাটিতে নামিয়ে দিচ্ছেন!’