৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার:আরও হতাহতের আশঙ্কা

17

Last Updated on

এবিসি ডেস্ক:পাকিস্তানে যাত্রীবাহী প্লেন বিধ্বস্তের ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থার মুখপাত্র সাদ ইধি। পড়ুন আগের খবর>>পাকিস্তানে ১০৭ আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্বস্ত

তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা দুর্ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫টি মরদেহ বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন। এছাড়া অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটিতে মোট কতজন মারা গেছেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান ঐতিহ্যবাহী ইধি ফাউন্ডেশনের এ প্রতিনিধি।
তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মডেল কলোনিতে বিধ্বস্ত হয় পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) প্লেনটি। এ৩২০ এয়ারবাসের ফ্লাইটটি লাহোর থেকে করাচি যাচ্ছিল।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম প্লেনটিতে মোট ৯৮ আরোহী ছিলেন জানালেও ডেইলি মেইল, ব্লুমবার্গসহ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ফ্লাইটটিতে ১০৭ আরোহী ছিলেন।

যান্ত্রিক ত্রুটি
বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ আগেই বিধ্বস্ত হয় প্লেনটি। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথন থেকে জানা গেছে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি। লাইভএটিসি ডটনেটে তাদের এ কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েডেট প্রেস।

সিন্ধ প্রদেশের গভর্নর ইমরান ইসমাইল বলেন, ‘প্লেনটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। এ কারণে স্থানীয়দের হতাহতের বিষয়টিই মূল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেঞ্জার্স ও উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আমরা যত বেশি সম্ভব প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছি।’ সূত্র: দ্য ডন।
এদিকে বিবিসি প্রতিবেদনে আরও বিস্তারিত ‍উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশানাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) বিমানটিতে ৯১ জন যাত্রী এবং আটজন বিমান কর্মী ছিলেন। লাহোর থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করে পাকিস্তানের অন্যতম ব্যস্ত একটি বিমানবন্দর করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাচ্ছিল।

বিমানবন্দর থেকে বিমানটি মাত্র প্রায় এক মিনিটের দূরত্বে ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে করাচির যে আবাসিক এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠছে।
উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এলাকার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

“বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে করাচিতে, আমরা ঠিক কতজন যাত্রী বিমানে ছিল তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বিমানে ৯৯জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু ছিলেন,” জানাচ্ছেন পাকিস্তান বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল সাত্তার খোখার।

বিমানটি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছিল। বিমানবন্দরের প্রায় দুই মাইল উত্তর পূর্বে করাচির মডেল কলোনি নামে একটি এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে।
টিভি ফুটেজ থেকে দেখা গেছে এলাকার বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ উজায়ের বিবিসি উর্দু বিভাগকে জানিয়েছেন বিকট আওয়াজ শুনে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন।

“প্রায় চারটি বাড়ি পুরো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। প্রচুর ধোঁয়া আর আগুন জ্বলছে। ওরা আমার প্রতিবেশি। ভয়ঙ্কর দৃশ্য।”

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী ড. কানওয়াল নাজিম বিবিসি ঊর্দুকে বলেছেন তিনি মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছেন। এবং মসজিদ লাগোয়া তিনটি বাড়ি থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে।

সরু রাস্তার জন্য উদ্ধারকাজের জন্য যানবাহন এবং অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রচুর মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছে।

পাকিস্তান সেনা বাহিনী বলেছে তাদের দ্রুত মোকাবেলা বাহিনীর সৈন্যরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য।
পাকিস্তানের করাচিতে ভেঙে পড়েছে যাত্রীবাহী বিমান

স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় জরুরিকালীন অবস্থা জারি করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস লকডাউনে বন্ধ থাকার পর মাত্র কয়েকদিন আগে দেশটিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল আবার শুরু হয়েছে।

রমজানের শেষে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতিতে অনেকেই এখন শহরে ও গ্রামে তাদের বাড়িতে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। পিআইএ-র প্রধান নির্বাহী এয়ার ভাইস মার্শাল আরশাদ মালিক বলছেন পাইলট ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন যে বিমানে “যান্ত্রিক ত্রুটি” দেখা যাচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন তিনি দুর্ঘটনার খবরে “মর্মাহত এবং দু:খিত” এবং অবিলম্বে ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন। পাকিস্তানের দুনিয়া নিউজ সংবাদ সংস্থা ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ড হাতে পেয়েছে এবং liveatc.net নামেএকটি মনিটরিং ওয়েবসাইটে সেটা পোস্ট করেছেন।

এই কথোপকথনে পাইলটকে বলতে শোনা গেছে তারা ”দুটি ইঞ্জিন হারিয়েছে”। কয়েক সেকেন্ড পরে তাকে বলতে শোনা যায় “মে-ডে, মে-ডে, মে-ডে”। এরপর সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পাকিস্তানের বিমান নিরাপত্তা রেকর্ড

২০১০ সালে, বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ারব্লু পরিচালিত একটি বিমান বিধ্বস্ত হয় ইসলামাবাদের কাছে। ওই দুর্ঘটনায় ১৫২জন যাত্রীর সবাই মারা যায়। সেটি ছিল পাকিস্তানের বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

২০১২ সালে, পাকিস্তানের ভোজা এয়ার পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-২০০ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রাওয়ালপিণ্ডিতে অবতরণ করার সময় বিধ্বস্ত হয়। ১২১জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু-র সবাই প্রাণ হারান।

আর ২০১৬ সালে, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশানাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল থেকে ইসলামাবাদ যাবার সময় আগুন ধরে যায় ও বিমানটি বিস্ফোরিত হয়ে ৪৭জন মারা যায়। বিবিসি