৩টি পত্রিকায় ক্ষোড়পত্র দেয়ায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্বেগ প্রকাশ

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:30 AM, 31 March 2019

ঢাকা অফিস: সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে ৩টি পত্রিকায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৯-এর ক্রোড়পত্র না দিতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হলেও তা উপেক্ষার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। ডিইউজে মনে করে, এরফলে অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত মালিকপক্ষকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, দৈনিক মানবকণ্ঠ, দৈনিক ভোরের পাতা, দৈনিক আমার বার্তা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৮ম ওয়েজ বোর্ডের রেটকার্ড নিয়েছে। ৮ম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দর পেলেও সাংবাদিকসহ কর্মরতদের ন্যায্য পাওনাদি থেকে বঞ্চিত করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেয়া হয় না। নিয়মানুযায়ী ইনক্রিমেন্টসহ অন্যান্য সুবিধাও দেয়া হয় না। চাকরিচ্যুত বা চাকরি ছেড়ে যাওয়াদের বকেয়া ও ন্যায্য পাওনাদি এখনও পরিশোধ করা হয়নি।

এ ধরনের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নির্বাহী পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তথ্যমন্ত্রী, তথ্য সচিব ও ডিএফপি’র মহাপরিচালককে ক্রোড়পত্র না দেয়ার জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সে অনুরোধ উপেক্ষা করে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত পত্রিকাগুলোকে ক্রোড়পত্র প্রদান করে তথ্য মন্ত্রণালয় প্রমাণ করলো তাদের কারণেই সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় কর্মরতদের সঙ্কট দূর হচ্ছে না।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম সঠিকভাবে চলছে কি না- সেটি পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব হলো তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদফতর ও বিভাগের। কিন্তু যখন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত সংবাদপত্রগুলোর বিরুদ্ধে তথ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়, তখন তা উপেক্ষা করা মানে সেই অনিয়মকে উৎসাহিত করা। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে সাংবাদিক সমাজের মাঝে, যা প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করা সংবাদপত্র মালিকরাই লাভবান হবেন।

নেতারা বলেন, সরকার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী পত্রিকা মালিকদের বিষয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নকে সঙ্গে নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় যেখানে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা সেখানে সংগঠনটির অনুরোধ উপেক্ষা দুঃখজনক, যা তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সাংবাদিক সমাজের মাঝে।

ডিইউজের দফতর সম্পাদক আমীর মুহাম্মদ জুয়েল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :