১৩ বাংলাদেশিকে কিরগিজস্থানে পাচার

দেশে ফেরাতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস যশোর

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:02 PM, 08 May 2022
প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে বিনয় মল্লিক

বাংলাদেশি ১৩ ‍কিশোর  শ্রম পাচারের শিকার হয়েছেন কিরগিজস্থানে । এরমধ্যে ৬জনের ঠাঁই হয়েছে দেশটির একটি সেল্টার হোমে। অপর ৭জন এখনো সেদেশে পাচার চক্রের হাতে বন্দি রয়েছেন। তারা নানাভোবে নির্যাতিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি অবহিত করে মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস যশোর’। পাচারের শিকার ১৩ কিশোরকে উদ্ধারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।

শ্রম পাচারের শিকারের মধ্যে রয়েছেন-কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আসাদ্জ্জুামান (৩৪), মুরাদনগর উপজেলার ওলিউল্লাহ (৩৩), আলমগীর হোসেন (৩৩), দেলোয়ার হোসেন (২৪), আবু মুসা (২৪) ও জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), দেবিদ্বার উপজেলার লিমন (২২), চান্দিনা উপজেলার শরিফুল ইসলাম (৩৪), নরসিংদীর শামসুল ইসলাম (৩৪), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সজল মিয়া (২৭), নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার আমির হামজা (৩৪), চুয়াডাঙ্গার বিপুল হোসেন (২৪) ও নুরুজ্জামান (২৮)।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, সাত মাস পূর্বে মাহমুদুল হাসান মীর নামে এক দালাল চুয়াডাঙ্গা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ ও কুমিল্লার ১৪ জনকে কিরগিজস্থানে গার্মেন্টসে কাজ দেয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রায় তিন লাখ করে টাকা নেয়। প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় কিরগিজস্থানে যাওয়ার পর বেতন হবে ৬শ’ ইউএস ডলার এবং কাজের সময় হবে ৮ ঘণ্টা।

কিন্তু ১৪ জনকে কিরগিজস্থানে পাঠানোর পর তারা সঠিক কাজ ও মজুরি পাননি। তাদের একটি ছোট কাপড়ের কারখানায় কাজ দেয়া হয়। যেখানে তাদের কোন বেতন দেয়া হচ্ছে না। তাদের বলা হয়েছে মাহমুদুল হাসান মীর তাদের কারখানার মালিকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এজন্য বেতন চাইলে বা বেতন না পেয়ে কাজ করতে রাজি না হলে তাদের উপর চালানো হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ইতিমধ্যে আসাদুজ্জামান, সজল মিয়া, আমির হামজা, ওলিউল্লাহ, লিমন ও বিপুল হোসেন এই ছয়জন পালিয়ে কিরগিজস্থানে ওয়াসিস নামে একটি সংগঠনের সেল্টার হোমে আশ্রয় নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতিমধ্যে পাচারের শিকার এক কিশোর কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ফেরত এসেছে। এছাড়া সাতজন পাচারকারী চক্রের হাতে এখনো বন্দি আছে। এ অবস্থায় বন্দি ও ওয়াসিসের আশ্রয়ে থাকা ১৩ বাংলাদেশি যুবককে দ্রুত দেশে ফেরত আনার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সেল্টার হোমে থাকা আসাদুজ্জামান নামে একজনের সাথে সংবাদকর্মীদের কথা হয়। আসাদুজ্জামান বলেন, বেতন চাইলে তাদের মারপিট করা হতো। চাবুক দিয়ে আঘাত করা হতো। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

এ সময় রাইটস যশোরের আইনজীবী তাহমিদ আকাশ ও প্রগতি সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধি আবু মহসিন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :