হেমন্ত সরকারের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

তিনি কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছেন-নেতৃবৃন্দ

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:55 PM, 28 December 2022
যশোরে স্মরণসভা

বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় যশোর দড়াটানা শহীদ চত্বরে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় উদ্যোগে কমিউনিস্ট নেতা কমরেড হেমন্ত সরকারের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন-কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিজুর রহমান।

 

প্রয়াত হেময়ন্ত সরকারের জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য রাখেন-কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক ও এনডিএফ খুলনা জেলা সম্পাদক তাপস বিশ্বাস, কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও এনডিএফ ঝিনাইদহ জেলা সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, এনডিএফ নড়াইল জেলা সভাপতি আক্তার হোসেন, যশোর জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য ও মাগুরা জেলা সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান মাস্টার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাজেস, জাতীয় ছাত্রদল খুলনার আহ্বায়ক সুকৃতি সরকার, যশোর জেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মধুমঙ্গল বিশ্বাস প্রমূখ। সভাটি পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শামীমুল হক।

সভায় প্রধান বক্তা বলেন, প্রয়াত কমরেড হেমন্ত সরকার সমগ্র জীবন ধরে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। বাংলাদেশ একটি নয়া ঔপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী দেশ। এদেশে কখনো গণতন্ত্র ছিলো না এবং এখনো নেই। আমাদের মতো দেশে সকল কিছুর নিয়ন্ত্রক ও পরিচালক সাম্রাজ্যবাদ। তাই সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের উচ্ছেদের সংগ্রামই হচ্ছে জাতীয় মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে সাম্রাজ্যবাদ ও তাঁর দালালদের স্বীয় স্বার্থে উগ্র বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের। ফলে বাংলাদেশ তার জন্মলগ্ন থেকেই সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালালদের লুটপাটের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত করেছে। কিন্তু শ্রমিক-কৃষক-জনগণের দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ীই সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের স্বার্থরক্ষাকারী স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। যে কারণে ক্ষমতাসীন প্রতিটি সরকারই জাতীয় ও জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে প্রভুর স্বার্থ রক্ষা করে। আজ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার মুখে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের কথা বলে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা উচ্ছেদের লড়াইয়ের পথ প্রদর্শক হচ্ছেন মহান বিপ্লবী কমরেড আবদুল হক।

 

আলোচকবৃন্দ আরো বলেন, বাজার পুনর্বণ্টন ও প্রভাব বলয় বৃদ্ধি নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব সুতীব্র হয়ে বিশ্ব শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের সামনে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ ঘনিয়ে আসছে। নেতৃবৃন্দ বিশ্বযুদ্ধের বিপরীতে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে নয়া-ঔপনিবেশিক দেশগুলোতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব এবং পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব তথা বিশ্ব বিপ্লব সম্পন্ন করে নতুন সমাজ গড়ে তোলার আহবান জানান।

 

আলোচকবৃন্দ বলেন, এ সময়ে শিল্পসহ অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাত এবং সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র অচল হয়ে পড়ে। কোটি কোটি শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকারত্বে নিপতিত হয়ে নিদারুণ দুঃখ-কষ্টে পড়েছেন। সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল সরকারগুলো যে উদ্ধার ও উদ্দীপক কর্মসূচি গ্রহণ করে তা মূলত একচেটিয়া পুঁজি ও তার দালালদের স্বার্থেই ব্যয় করা হয়। দারিদ্র সীমার নীচে জনগণের বিরাট অংশ নিপতিত হয় এবং দুর্ভিক্ষাবস্থা বৃদ্ধি পায়। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনগণ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলোসহ বিশ্বের দেশে দেশে রাস্তায় নেমে আন্দোলন-সংগ্রামে সামিল হচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রাম দমনের লক্ষ্যে করোনা মোকাবেলার নামে তারা বিভিন্ন দমন-পীড়নমূলক আইন পাশ করছে। এর বিরুদ্ধেও জনগণ সোচ্চার হচ্ছে। এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জনগণকে বাজার অর্থনীতি, ব্যক্তিমালিকানা ও প্রচলিত পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অর্থনীতি, ও সামাজিক মালিকানা তথা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম অগ্রসর করতে হবে যেখানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা এই ৫টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা পাবে জনগণ।

 

শোষিত-বঞ্চিত শ্রমিক-কৃষক-জনগণের দুঃখ-কষ্ট, নিপীড়ন-নির্যাতনের জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজি এবং তাদের পাহারাদার শোষণমূলক স্বৈরাচারী এই সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে উৎখাত করা ভিন্ন জনগণের মুক্তির অন্য কোন পথ নেই। এই দিক-নির্দেশনার ক্ষেত্রে মহান কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড হেমন্ত সরকার মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সামনে রেখে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার যে সংগ্রাম করেছেন তা কার্যকরী করতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়াটা তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রকৃত পথ। সকাল সোয়া ১০টায় প্রয়াত কমরেডের নড়াইলের বড়েন্দার গ্রামস্থ সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, নিরবতা পালন ও শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :