হিন্দু বাড়িঘরে হামলা লুটপাট:সিলেটে বিক্ষোভ প্রতিবাদে প্রশাসনের অপসারণ দাবি

44

>>সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়:এবিসি গ্রুপের নিন্দা বিবৃতিতে উগ্রবাদীদের গ্রেফতার দাবি
এবিসি ডেস্ক:
সুনামগঞ্জের শাল্লার হিন্দু বাড়িঘরে হামলা লুটতরাজ ও ভাংচুরের ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। খবর পেয়েও পুলিশ অনেক দেরিতে ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ আসার আগেই তান্ডব চালিয়ে বীরদর্পে সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে যায়।

এঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অপসারণ চেয়ে সিলেটে বিক্ষোভ করেছেন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আরও খবর>>সুনামগঞ্জের শালায় হিন্দু বাড়িঘরে হেফাজত কর্মীদের হামলা লুটপাট

পরে সিটি পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে বক্তারা ঘটনাটিকে ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’ উল্লেখ করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করেন। এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে ঝুমন দাসের ঘরের ভিতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মালামাল।  ছবি তোলা বুধবার বিকেলে 
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আজ বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। নোয়াগাঁওয়ের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই গ্রামে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। হামলা হতে পারে, এ আশঙ্কায় ওই গ্রামের লোকজন মঙ্গলবার রাত থেকে বাড়িঘর ছেড়ে পাশের গ্রাম ও হাওরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সর্বশেষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সহায়তা চেয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ মামুনুলরা বিভিন্ন ধর্ম ও নারীদের নিয়ে কটুক্তি করে বয়ান দিয়ে চলেছে কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না অথচ তাদের কটুক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে কিছু লিখলে সম্প্রীতির অজুহাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়-এ কেমন আইন ?
এখনো এই উগ্রবাদীদের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে দেশটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালনা করা সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

এবিসি অনলাইন এক্টিভিস্ট ইউনিটের নিন্দা প্রতিবাদ
এদিকে এঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনলাইন এক্টিভিস্টদের মানবাধিকার সংগঠন এবিসি অনলাইন এক্টিভিস্ট ইউনিটের(abc online activist unity) সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে এহেন কর্মকান্ডকে তীব্র সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এধরণের কর্মকান্ড মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অতি দ্রুত হামলা ও লুটপাটে জড়িতদের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েচে। বিবৃতিদারা হলেন,এবিসি অনলাইন এক্টিভিস্ট ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সুনীল ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বোর্ড কমিটির এমডি সাবিরা ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি চিন্ময় চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক এলিজা রহমান, জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক মিন্টু দত্ত, আহমেদ জাহাঙ্গীর, রুমন কামাল, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি  শাহাবুদ্দীন গোলদার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মাসুদ, সহসাংগঠনিক এসকে সুমন, সহ সম্পাদক সুমন ঘোষ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. টিটো মোহন দে, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এমএ মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক মিঠুন আচার্য্য, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল দে, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুনিরুজ্জামান মুন্না, আপেল মাহমুদ প্রমুখ।

সূত্র:প্রথম আলো