হামলাকারীর নাম–পরিচয় প্রকাশ

16

এবিসি ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে হামলাকারীর নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর নাম নোহা গ্রিন (২৫)। তিনি ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনো রাজনৈতিক দলের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাতেও তিনি ছিলেন না। এদিকে হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় পাওয়া গেছে। উইলিয়াম ব্যালি নামের ওই কর্মকর্তা ১৮ বছর ধরে ক্যাপিটল পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নোহা গ্রিনকে ‘নেশন অব ইসলাম’ নামের একটি দলের সদস্য হিসেবে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নোহা গ্রিনকে ‘নেশন অব ইসলাম’ নামের একটি দলের সদস্য হিসেবে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নোহা গ্রিনকে ‘নেশন অব ইসলাম’ নামের একটি দলের সদস্য হিসেবে দেখা গেছে। সিএনএনের খবরে জানা যায়, ইনস্টাগ্রামে নোহা গ্রিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে কৃষ্ণাঙ্গদের এক নম্বর শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে মন্তব্য করেন। ইনস্টাগ্রামে নোহা গ্রিন নিজেকে লুইস ফারাখানের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের ভিডিও তিনি পোস্ট করেছেন।

আরও খবর>>যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে হামলার চেষ্টা:দু’জন নিহত

হামলাচেষ্টার কয়েক ঘণ্টা আগে নোহা গ্রিন ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েকটি পোস্ট দেন। তিনি বেশ কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেন। এসব পোস্টে নোহা গ্রিন লিখেছেন, কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর চাকরি চলে গেছে। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারকে দায়ী করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যম বলেছে, নোহা গ্রিনের হামলাচেষ্টার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

এদিকে ক্যাপিটল পুলিশ বলছে, হামলাচেষ্টার ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম উইলিয়াম ব্যালি। তিনি ক্যাপিটল পুলিশে ১৮ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। আহত আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থা স্থিতিশীল।

ক্যাম্প ডেভিড থেকে দেওয়া শোকবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিহত পুলিশ কর্মকর্তার সম্মানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিয়েছেন।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও ক্যাপিটল হিলে পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দিয়ে শোক জানিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তা উইলিয়াম ব্যালি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি আলেজান্ড্রো মেওয়রকাস টুইটে জানিয়েছেন, হামলার অনেক ঘটনাই এখনো পরিষ্কার নয়। এ ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ক্যাপিটল পুলিশের সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করেছে।

ঘটনার সময় ক্যাপিটলে আইনপ্রণেতারা অনুপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেসের অবকাশ চলছিল। বেশির ভাগ কর্মী দাপ্তরিক কাজ করছিলেন।

ইস্টারের অবকাশ কাটানোর জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবারের সকালেই হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন।

গতকাল হামলাকারী গাড়ি নিয়ে ক্যাপিটল ভবনের দিকে যাওয়া কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউয়ে নিরাপত্তা প্রতিবন্ধক ভাঙার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। পুলিশ সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে গুলি করে। এতে হামলাকারী নিহত হন। এর আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই সদস্য ছুরিকাঘাতের শিকার হন।
গত ৬ জানুয়ারি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলায় ক্যাপিটল হিল তছনছ হয়েছিল। এরপর আবার এই হামলার চেষ্টা হলো।

৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হন। ঘটনার জের ধরে আরও দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেন। ৬ জানুয়ারির পর থেকেই ওয়াশিংটনে সর্বাত্মক সতর্কাবস্থা ছিল। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন শপথ নেওয়ার পরই দেশের সর্বত্র সতর্কাবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) জঙ্গিবাদীদের হামলার আশঙ্কা নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক করে দিয়েছে।