হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি

15

মাদারীপুর সংবাদদাতা:মাদারীপুর সদরের গাছবাড়িয়া গ্রামে ইজিবাইক চালক সুলতান ব্যাপারীকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ নিতাই চন্দ্র সাহা এই রায় দেন। মামলায় অপর দুই আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর আদালতের পিপি সিদ্দিকুর রহমান সিং।

আসামিরা হলো– রাজৈর উপজেলার সুতারকান্দি গ্রামের কুদ্দুস ব্যাপারীর ছেলে জনি ব্যাপারী (২২) এবং তার ভাই শরিফুল ব্যাপারী (২০)।

মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া এলাকার ত্রিভাগদি-আশাপাট সড়কে চালককে খুন করে ইজিবাইক নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় হাদিউজ্জামান নামে এক তরুণের সঙ্গে ধাক্কা লাগে হত্যাকারীদের। তার সঙ্গে থাকা অন্য তরুণরা ইজিবাইকে থাকা লোকদের শরীরে রক্ত দেখে কারণ জানতে চাইলেই দৌড়ে পালিয়ে যায় দুজন, বাকি দুজনকে ধরে ফেলে তারা। পরে শত শত এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হয়ে পলাতক দুই খুনির সন্ধান শুরু করে। আধ ঘণ্টা পরে ত্রিভাগদী বাজারের কাছ থেকে তাদের আটক করা সম্ভব হয় শরীরে রক্তের দাগ দেখে। এ সময় এলাকাবাসী তাদের গণধোলাই দিয়ে আহতও করে। এরপর তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কুনিয়া ইউনিয়নের আশাপাট গ্রামের রাস্তার পাশে ফেলা রাখা সুলতান ব্যাপারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে মডেল থানা পুলিশ। তার মাথায়, শরীরের বাঁ কাঁধে, বুকে, পেটে, ডান হাতের কব্জিতে ও ডান পায়ের উরুতে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় ইজিবাইকটিও জব্দ করে পুলিশ।

আদালতের পিপি জানান, নিহত ইজিবাইক চালক সুলতান ব্যাপারীর স্ত্রী হাফিজা বেগম বাদী হয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা, লাশ গুম ও ইজিবাইক লুট করার ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশের অভিযোগপত্র, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে তরুণ দুই ভাই জনি ব্যাপারী ও শরিফুল ব্যাপারীকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রদান করেন আদালত। অপর দুই আসামি সাব্বির হাওলাদার ও শাওন জমাদ্দার অপ্রাপ্ত বয়সী কিশোর হওয়ায় তাদের বিচার এখনও চলছে।