স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাফ কথা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীরা ছাড় পাবে না

21

এবিসি ডেস্ক:রাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাফ জানিয়ে দিলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের ছাড় দেয়া হবে না। সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে সাম্প্রদায়িকতা হতে দেওয়া যাবে না। 

আজ বৃহস্পতিবার(২৫ মার্চ)রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা এবং এতিমদের মাঝে বস্ত্র ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার পর ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করবে কি-না, সে অপেক্ষায় ছিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তারা মামলা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এখন মামলা নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সেখানে যে কোনো বিশৃঙ্খলা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে।’ আরও খবর>>সুনামগঞ্জের শালায় হিন্দু বাড়িঘরে হেফাজত কর্মীদের হামলা লুটপাট

তিনি আরও বলেন, ‘এদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। যা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। এই শান্তি যেন কেউ নষ্ট না করতে পারে, সেজন্য সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন এবং মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ কেউ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ধর্ম বা চেতনায় আঘাত করার চেষ্টা করছে। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো মন্তব্য করার আগে অবশ্যই সঠিকভাবে চিন্তা করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা আবারও ব্যাপকভাবে আসছে। বারবার সময় হবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। যতদিন কোভিড-১৯ না যায় ততদিন সবাইকে মুখে মাস্ক অবশ্যই রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল এই দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ হবে। এখানে কেউ না খেয়ে থাকবে না। সবাই ঠিকানার জন্য একটি বাড়ি পাবে। প্রধানমন্ত্রী সকল গৃহহীনদের জন্য একটি করে ঘর দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন। সেই অনুযায়ী তিনি কাজ করছেন। কিছুদিনের মধ্যে তিনি ঘোষণা করবেন দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন নেই। দেশের মানুষ শতভাগ শিক্ষিত হবে, শতভাগ চিকিৎসাসেবা পাবে- সেজন্য তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তার সুফলও দেশবাসী পাচ্ছে।’

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার সকালে শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালিয়ে ৬০-৭০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করে হেফাজতে ইসলামীর অনুসারীরা। খবর পেয়ে শাল্লা থানা পুলিশসহ ও দিরাই থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে গত সোমবার দিরাই উপজেলায় হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত সম্মেলনে যান হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। সম্মেলনে মামুনুল হকের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে স্থানীয় এক হিন্দু যুবক ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন বলে পুলিশ জানায়।