সৌর চালিত গাড়ি বানালেন যবিপ্রবীর শিক্ষক হুমায়ুন কবির

265

Last Updated on

এবিসি নিউজ: যবিপ্রবীর  পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির আবিস্কার করলেন সৌর চালিত গাড়ি । এ গাড়ি তৈরিতে সোলার প্যানেল ছাড়া সবকিছুই দেশীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করে স্থানীয় একটি মোটর ওয়ার্কশপে তৈরি করেছেন। উদ্ভাবক ড. মো. হুমায়ুন কবির জানান এতে ব্যয় হয়েছে মাত্র এক থেকে দেড় লাখ।

তিনি জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিল থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট থেকে গবেষণা প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় তিনি সৌরশক্তিচালিত গাড়ি তৈরির জন্য প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থের জোগান দেন। এরপর তিনি (হুমায়ুন কবির) গাড়ি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে গাড়িটি তৈরি করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সোলার প্যানেল ছাড়া এ গাড়ির সব যন্ত্রাংশ দেশে তৈরি। গাড়িটির মানোন্নয়ন করে বাণিজ্যিকভাবেও এর ব্যবহার সম্ভব।

ড. মো. হুমায়ুন কবির আরও জানান, সারাবিশ্বে সৌরশক্তিচালিত গাড়ি তৈরি এবং ব্যবহারের আগ্রহ বেড়ে চলছে। টেসলা নামক কোম্পানি এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। সৌরশক্তি দিয়ে গাড়ি চালানোও নতুন নয়। তবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়নি। গবেষণা চলছে উন্নত করার।

ড. হুমায়ুন কবিরের মতে, আমাদের দেশে সৌরশক্তিচালিত গাড়ির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আমাদের দেশে চায়না থেকে আমদানিকৃত ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার বহুল প্রচলিত। যদিও সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বা অনুমোদিত নয়, তবুও তা চলছে। নিম্নমানের ওইসব গাড়ি আমদানি করতে প্রতি বছর হাজার হাজার ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার পরও, আমাদের দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। যে ফসিল ফুয়েল দিয়ে গাড়ি চলে তার পুরোটাই আমদানিনির্ভর এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। এ বিষয়গুলো চিন্তা করে আমরা সৌরশক্তিচালিত গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করি।

তিনি আরও জানন, এ গাড়ির মূল বিষয়টি হলো সৌরশক্তি ব্যাটারিতে জমা হবে, জমা হওয়া বৈদ্যুতিক চার্জ দিয়ে মোটর চলবে, যা গাড়ির চাকা ঘোরাবে। দুজন যাত্রী এবং একজন চালকসহ ৩৩০ কেজি ওজন বহনে সক্ষম এ গাড়িটি একদিনের চার্জে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলবে। তবে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সৌরকোষ ব্যবহার করে তা দ্বিগুণ বা তিনগুণ বাড়ানো সম্ভব। প্রাথমিকভাবে এই গাড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। একটু মানসম্পন্নভাবে গাড়িটি তৈরি করা গেলে এটি ১০ বছর পর্যন্ত চালানো যাবে। সেক্ষেত্রে ব্যাটারি পরিবর্তন ও সোলার প্যানেলটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে যবিপ্রবির জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশাসন গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এখানে নানা ধরনের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এখানে মুরগির প্রোবায়োটিক, মাছের ন্যানো ফিসফিড উদ্ভাবন করা হয়েছে। সোলার কারটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন।

যশোরকে বলা হয় ইজিবাইকের শহর উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ইজিবাইক আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, তেমনি এটি চালাতে প্রচুর বিদ্যুতের খরচ হয়। এ কারণে এই ‘সোলার কার’টি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, তেমনি বিদ্যুতের ওপর চাপও কমবে।
বিষয়টি নিয়ে বেশ আগ্রহের ‍সৃষ্টি হয়েছে অটোরিকশা চালকদের মধ্যে। তারা মনে করেন এতে বিদ্যুতের যেমন প্রয়োজন হবে না, তেমনি চার্জ দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটবে না।