সেই লাশের পরিচয় মিলেছে

12

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:শরণখোলায় উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। মৃতদেহটি উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত. নজীর আহম্মেদের স্ত্রী লাকী বেগম (৩৫)। তিনি ৩ সন্তানের জননী ছিলেন। লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তেরর জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় উপজেলার রাজেশ্বর গ্রামের একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয় এক নারীর লাশ। পরে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় (রোববার) বিকেলে বাগেরহাট জেলা (অতিরিক্ত) পুলিশ সুপার মীর সাফিন মাহমুদের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, পিবিআই ও শরণখোলা থানা পুলিশ নিহত লাকীর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্য সহ স্থানীয়দের কথা বলে তার মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করে।
অপরদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে লাকীর মৃতদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন খাঁন বলেন, লাকী বেগমের প্রথম স্বামী নজীর আহম্মেদ কয়েক বছর আগে সুন্দরবনের দস্যুদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়ে যায়। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতেন। তাই বছর খানেক পূর্বে লাকী বেগম উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ছোট নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বাদশা সরদারের ছেলে ইজি ভ্যানচালক আঃ ছালাম সরদারকে বিয়ে করেন। নিহত লাকী পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশ আঃ সামাদ হাওলাদারের মেয়ে ও রাজাপুর বাজারের বাসিন্দা ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য মেম্বর প্রার্থী মোঃ মহিদুল ইসলামের ছোট বোন।
লাকী বেগমের মেঝ মেয়ে তায়েবা (১০) বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দুপুরে মায়ের কাছে একটি ফোন আসলে তিনি মামার বাড়িতে যায়। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ ও কোথাও খুঁজে পাইনি।
শরণখোলা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।