সুন্দরবনে মহিষ চড়ানোর বিনিময়ে অর্থ বাণিজ্য

30

শরণখোলা প্রতিনিধি:সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মহিষ চড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে অর্থ বাণিজ্যে মেতে ওঠার অভিযোগ উঠেছে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পুর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন দাসের ভাড়ানী টহল ফাঁড়ির (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা (এফজি) শফিকুল ইসলাম ও চাঁদপাই রেঞ্জের ধান সাগর স্টেশনের কর্মকর্তা (ফরেস্টার) ফরিদুর ইসলামসহ তাদের সহযোগী বনরক্ষীরা বন-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মহিষ চড়ানোর মৌখিক অনুমতি দিয়ে প্রতি মাসে মহিষ প্রতি ৩০০/৪০০ টাকা করে আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আলাপকালে উপজেলার ধানসাগর ও রসুলপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা বনী হোসেন, ছোবাহান হাওলাদার, ফারুক সর্দার, শফিজ উদ্দিন, মহিষ জামাল, হেমায়েত উদ্দিন, সামশেল হক ও রফিকুল ঘরামীসহ ১৫/২০ ব্যক্তির শতাধিক মহিষ দাসের ভাড়ানী, নাংলী, ধানসাগর ও কলম তেজীসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় মাসের পর মাস ধরে অবাধে চলাচল করায় বনের নানা প্রজাতির গাছের চারাসহ বিভিন্ন প্রকার সম্পদ ধবংস হচ্ছে। পাশাপাশি ওই সকল মহিষের মালিক ও পালকরা বনের গভীরে প্রবেশ করে বিড়ি-সিগারেট সহ নানা ধরনের মাদক সেবন করে আগুনের অংশ বিশেষ ফেলে দেয়ায় অনেক ক্ষেত্রে বনের গভীরে আগুনের সৃষ্টি হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকা গুলোর বনরক্ষীদের তেমন কোন টহল ব্যবস্থা না থাকায় বন-সংলগ্ন এলাকার অনেক লোভী মানুষ অবাধে বনের গহীনে প্রবেশ করে মাছ, মধু, কাকড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সম্পদ লুটে নিলেও বন-কর্মীরা অধিকাংশ সময় কাটান ঘুমিয়ে। মাস ফুরিয়ে গেলে বেতনের পাশাপাশি উৎকোচের টাকায় তাদের জীবন চাকা ভালো চললেও নানা কারনে সর্বনাশ হচ্ছে বিশ্বের বৃহতত্তর ম্যানগ্রোপ ফরেষ্ট সুন্দরবনের। তবে, মহিষ চড়াতে দিয়ে অর্থ-বানিজ্য করা সহ নানা অনিয়মের কথা অস্বীকার করে ধানসাগর ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম ও দাসের ভাড়ানী টহল ফাাঁড়ির (ভারপ্রাপ্ত)কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে মহিষ চড়াতে দিয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়টি সম্পুর্ন গুজব। তবে, স্থানীয়দের বাসিন্দাদের কিছু মহিষ মাঝে-মধ্যে বনের গহীনে ঢুকে পড়ে। সেগুলো আমাদের নজরে আসলে তাৎক্ষনিক তাড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করি।