সাতক্ষীরায় রেকর্ড ১৪ জনের মৃত্যু:অক্সিজেন সংকটে মৃত্যু ৮জনের

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:09 PM, 01 July 2021
ফাইল ছবি

>>সেনা বিজিবি পুলিশের টহল শুরু
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে অক্সিজেন সংকটে। মৃতদের চারজন ছিলেন করোনা পজিটিভ। অন্যরা মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে। অক্সিজেন সংকটের কারণে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার বিকালে সাতক্ষীরা মেডিকেলে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের প্রেসার কমে আসতে থাকে। সেই সংকট মূহুর্তে পর পরই আইসিইউতে দুইজন, সিসিইউতে দুইজন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে আরও চারজনসহ আট জনের মৃত্যু হয়। রোগীদের স্বজনরা বলেন, অক্সিজেন সংকট দেখা দিলেও তা পূরণ করতে কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এসব রোগী মারা গেছে। রাত আটটার দিকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
এরআগে বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়। তারা মারা যান করোনা উপসর্গ নিয়ে।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, সেন্ট্রাল অক্সিজেনে প্রেসার কমে গেলেও অক্সিজেন সংকটে কেউ মারা যায়নি। এ সময় চারজন করোনা পজিটিভ রোগীর অবস্থা খুবই সংকটজনক ছিল দাবি করে তিনি বলেন তারা ছিলেন সিসিইউ ও আইসিউতে। তারা অক্সিজেন সংকটে মারা যাননি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেলে ৭৬টি বড় আকারের অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। সংকট দেখা দিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে।
এদিকে এখন পর্যন্ত ২৭৫ জন রোগী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ২৬ জন। অন্যরা করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন।
এদিকে সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কিছু ভুল তথ্য দেয়া হয়। সর্বশেষ বেলা ১০ টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা.জয়ন্ত কুমার সরকার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন মৃত ১৪ জনের চারজন ছিলেন করোনা পজিটিভ। অন্যরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি বলেন গত ২৪ ঘন্টায় ১০৬ জনের নমুনা পরিক্ষা করে ৫২ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। শতাংশের হিসাবে তা দাঁড়ায় ৪৯ দশমিক ০৫ ।
এরআগের ছয় দিনে তা ছিল যথাক্রমে ৩০ দশমিক ৮৬ শতাংশে, ২৭ দশমিক ৫০, ২৮.২ শতাংশ, ৩২.৭২ শতাংশ, ২৭.০৪ শতাংশ ও ৩০.৩৭ শতাংশ।
এদিকে বিশেষ লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার শহরে সেনা সদস্য বিজিবি ও পুলিশ টহলে নেমেছে। জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির এবং পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান তাদের সাথে থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন। দোকানপাট সব কিছু বন্ধ রয়েছে। লোকজনের উপস্থিতিও কম। শহরজুড়ে রয়েছে পুলিশের ব্যারিকেড। বিনা পয়োজনে কেউ বাড়ির বাইরে আসছেন না।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :