সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে পশুরহাট:মানছে না কেউ স্বাস্থ্যবিধি

7

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরায় শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর হাটগুলো। তবে কাঙ্খিত দাম না পেয়ে হতাশ পশু বিক্রেতারা। এদিকে, গরুর হাটে শারীরিক দূরত্ব মানছেন না কেউ। অনেকেরই মুখে নেই মাস্ক। গরুহাটে মাস্কবিহিন অবাঁধে চলাফেরা করায় করোনা সংক্রমণের হার আবারো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সাতক্ষীরায় ৩ জুন থেকে চলছে কঠোর লকডাউন। গরুর হাট বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শনিবার প্রথম খুলেছে জেলার বৃহত্তম আবাদের হাট পশুর হাট। গরুও উঠেছে প্রচুর। তবে কেনা-বেচা কম। এছাড়া পশুর দাম না পেয়ে হতাশ বিক্রেতারা।
আবাদের হাটের গরু বিক্রেতা আফজাল হোসেন জানান, ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে গরু। তবে বড় গরুর দাম নেই। ক্রেতাও নেই। ৭ মণ ওজনের একটি গরু দাম চাচ্ছি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বেশি দাম উঠছেনা না।
আরেক গরু বিক্রেতা ইরফান হোসেন জানান, গতবার ২৫ হাজার টাকা মণ দরে গরু বিক্রি হয়েছিল। আর এবার ২০/২২ হাজার টাকার বেশি দাম উঠছে না।
এদিকে, শারীরিক দূরত্বের বালাই নেই এই হাটে। মাস্কও পরছেন না অনেকেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সব রকম চেষ্টা করছেন বলে জানান হাটের ইজারাদার হাবিবুর রহমান হবি।
তিনি বলেন, সব রকমের চেষ্টা সত্বেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এবিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সুব্রত ঘোষ জানান, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমেছিল। তবে এখন যে অবস্থা, এর পরিণতি কি, ভাবতেই গাঁ শিউরে উঠে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫৬ হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে কোরবানির জন্য। এরমধ্যে স্থানীয় বাজারে চাহিদা রয়েছে ৪৮ হাজার পশুর। দীর্ঘদিন অনলাইনে কেনা-বেচা হয়েছিল। শনিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলাব্যাপী ১৫টি হাট খুলে দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, বয়স্ক ব্যক্তিরা হাটে যেতে পারবে না, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, শহর এলাকার বাইরে হাট বসাতে হবে, এমন বেশ কয়েকটি শর্তে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।
তবে এসব মান্যের বালাই নেই হাটগুলোতে। সাতক্ষীরার আবাদের হাটে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতায় ঠাঁসা পুরো এলাকা। অধিকাংশের মুখে নেই মাস্ক। মুখে রুমাল বা টিস্যু না চেপে হাচি-কাশি দিচ্ছেন অনেকেই।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সহিদুল ইসলাম জানান, হাট তদারকির কমিটি রয়েছে। কমিটির লোকজন সরেজমিনে যাচ্ছেনও। কিন্তু কোনভাবেই মানতে বাধ্য করা যাচ্ছে না শারীরিক দূরত্বসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি।