সাতক্ষীরায় এক প্রতারক অস্ত্রগুলিসহ গ্রেফতার

15

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পরিচয় দেয়া এক প্রতারককে একটি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে সাতক্ষীরা পুলিশ। একই সাথে ওই ব্যক্তি কখনও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় নেতা, কখনও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এমনকি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবের ঘনিষ্ঠ লোক পরিচয় দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন।

শনিবার ভোরে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ডাক্তার এসএম বাদশা মিয়া নামের ওই প্রতারককে শহরের বাইপাস সড়ক এলাকার লেকভিউয়ের কাছে একটি মুদি দোকান থেকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবের সিলপ্যাড, একজন সংসদ সদস্যের প্যাডে লিখিত ডিও লেটারসহ নানা ভূয়া কাগজপত্র। বাদশা মিয়া শহরের পলাশপোলের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নিজেকে ডাক্তার হিসাবে পরিচয় দিলেও তার কোন ডাক্তারি সনদপত্র অথবা নিবন্ধনপত্র নেই বলেও জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার এসএম বাদশা মিয়া এরআগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত এ্যাড. সাহারা খাতুনের পালিত পুত্র পরিচয় দিয়ে প্রতারণার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এখন সে মুসা বিন শমসেরের পালিত পুত্র বলেও বিভিন্ন স্থানে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন মামলার তদবির, থানায় দায়ের করা মামলায় চাজর্শিট অথবা ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া এমনকি পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি ও পুলিশের চাকরির নামে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে বাদশা মিয়া সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সাথে এক বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পরিচয়ে একটি মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার জন্য হুমকি দেয়। এসব ঘটনায় পুলিশ তাকে খুঁজছিল।
এদিকে বাদশা মিয়াকে গ্রেফতারের পর সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এসএম আব্দুর রবের সভাপতিত্বে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে বক্তারা বাদশা মিয়াকে সাতক্ষীরার শীর্ষ প্রতারক রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক দ্বিতীয় শাহেদ করিম হিসাবে আখ্যায়িত করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অপরদিকে বিকালে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়ার প্রতারণার বিভিন্ন কাহিনী তুলে ধরেন।