সাতক্ষীরার শতাধিক গ্রাম ও চিংড়ী ঘের প্লাবিত:যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন

25

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র দাপুটে প্রভাবে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর ও আশশুনি উপজেলার শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের বিপুল সংখ্যক কাচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে কয়েকশ’ চিংড়ী ঘের। নোনা পানির এ অঞ্চলের মানুষ পুকুরের মিষ্টি পানির ওপর নির্ভরশীল। সেসব পুকুরও নোনা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। পানির তোড়ে শ্যামনগর উপজেলার স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দেখা যায়, প্লাবনে উঠে আসা মাছ রাস্তার ওপর কিলবিল করে বেড়াচ্ছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে না উঠলেও নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র গুলো এক প্রকার খালি পড়ে আছে।
বুধবার সকালে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ঝাপা গ্রামে বেড়িবাঁধের চারটি পয়েন্ট, পাতাখালির দুটি পয়েন্ট, রমজাননগরের দুটি পয়েন্ট, গাবুরার তিনটি পয়েন্ট, কৈখালির দুটি পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনীর তিনটি পয়েন্ট ও নূরনগর ইউনিয়নের একটি পয়েন্টসহ অন্ততঃ ১৬টি স্থানে পানি বেড়িবাঁধ উপচে গ্রামে ঢুকে পড়েছে। এসব বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিতে মিশে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এদিকে কালিগঞ্জের পূর্ব নারায়নপুর গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলা হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম কাঁকশিয়ালী নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে। আশাশুনির দয়ারঘাট ও প্রতাপনগরের কুড়ি কাহনিয়া লঞ্চঘাট এলাকা ভেঙে নোনা পানিতে আটকে পড়েছে গ্রামবাসী। গাবুরার জেলেখালি, নেবুবুনিয়াম চাদনীমুখাসহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিতে ভাসছে। গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা বালির বস্তা এবং মাটি ফেলে বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, ৩০ ভাগ চিংড়ী ঘের পানির তলে তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জার গিফারী জানান, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা যায়নি। তবে ক্ষতির অংক হবে অনেক বড়।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট ধ্বসে নদীর পানি ছড়িয়ে পড়েছে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সেতু উপচে চুনা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকা। এখন পর্যন্ত কোন প্রাণহানীর খবর পাওয়া যায়নি। তবে গ্রামবাসী গবাদিপশু ও তাদের সহায় সম্পদ নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছেন। সাতক্ষীরায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে, সেইসাথে ঝড়ো হাওয়া ছিল প্রবল।