সহিদা বেগম এনআইডি কার্ড পেয়ে প্রমাণ করিলেন তিনি মরেন নাই!

77

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও – এই প্রতিষ্ঠানটির সামান্য একটি ভূলের কারণে দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে হয়রানির শিকার হয়েছেন বয়োবৃদ্ধা সহিদা বেগম । অবশেষে দীর্ঘ হয়রানির পর ঘটনাটি গণমাধ্যমের নজরে এলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ‘ মৃত ‘ সহিদা বেগমকে ‘ জীবিত ‘ করে সনদপত্র দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ( ইসি ) ।

সহিদা বেগম (৮৪ )দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউপির নান্দেড়াই গ্রামের মৃত ফজির উদ্দীন ইসাহাকের স্রী ।
সহিদা বেগমের স্বামী ফজির উদ্দীন ইসাহাক ছিলেন ভূমি অফিসের একজন কর্মচারী । একযুগ আগে তিনি মারা যান । তার মৃত্যুর পর অবসর ভাতার প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে কোনোমতে টেনেটুনে ছেলেকে নিয়ে সংসার চালান সহিদা বেগম । কিন্তু নির্বাচন কমিশন অফিসের চরম এক খামখেয়ালীপনা আর গাফিলতির শিকার হন তিনি । নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ‘ জীবিত ‘ সহিদা বেগমকে ‘ মৃত ‘ দেখায় । গত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংক থেকে অবসরভাতা তুলতে গিয়ে সহিদা বেগম জানতে পারেন,তাকে নির্বাচন কমিশন মৃত হিসেবে দেখানোয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবসরভাতা বন্ধ করে দেয় । ফলে বন্ধ হয়ে যায় তার অবসরভাতাসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা ।

সেই থেকে জীবিত সহিদা বেগম লড়াই শুরু করেন নিজেকে মৃত মুক্ত করতে – দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে তিনি মৃত নাম সংশোধনের জন্য আবেদনপত্র, স্হানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক জীবিত থাকার সুপারিশপত্র, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, পাশবই, ব্যাংকের চেক বইসহ যাবতীয় কাগজপত্র সহকারে নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দিলেও সংশোধিত হয়নি নাম । ফলে সন্তানদের নিয়ে চরম অসহায় আর মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হন এই বয়োবৃদ্ধা সহিদা বেগম । সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির কাছে কোনো ধরনের যেন গুরুপ্তই ছিল না । সাংবিধানিক এই জন গুরুপ্তপুর্ণ প্রতিষ্ঠানটি থেকে মৃত থেকে জীবিত হতে না পারার ঘটনাটি গণমাধ্যমের নজরে আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় ঘটনাটি । ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পড়লে তবেই টনক নড়ে নির্বাচন কমিশনের ।

অবশেষে ভাইরাল হওয়া ঘটনার সহিদা বেগমকে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় ‘ জীবিত ‘ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করায় গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংক থেকে অবসরভাতা’র টাকা তুলতে সক্ষম হন তিনি ।

এব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক গণমাধ্যমে জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময়ে সহিদা বেগমকে ভূল বশত ‘ মৃত ‘ দেখানো হয়েছিল । আমরা তাঁর নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় ‘ জীবিত ‘ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করেছি ।

দীর্ঘ ১৪ মাস পর মৃত ভোটার তালিকা থেকে জীবিত হিসেবে মুক্ত হওয়ায় এবং অবসরভাতা উত্তোলন করতে পারায় সহিদা বেগম গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকেরা আমাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার কারণেই আজ আমি জীবিত হতে পেরেছি । এজন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ ।

সংগ্রহ: নীল পূর্ণীমা পেজ থেকে