সরকার বিরোধেী বিক্ষোভে উত্তাল বেলারুশ

19

প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের দেশ বেলারুশ। রোববার দেশটির লাখো মানুষ রাজধানী মিনস্ক-সহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রায় আড়াই শ’ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, মার্চ অব হিরোস নামে এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল দেশটির বিরোধী দল। এক মাস আগে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো আবারও ক্ষমতায় আসার পর থেকে নির্বাচনী ফল প্রত্যাখ্যান করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন বিরোধীরা। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ কঠোর অভিযান পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

রোববার বিক্ষোভ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ বলছে, মার্চ অব হিরোস থেকে তারা অন্তত আড়াই শ’ জনকে গ্রেফতার করেছে।

ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসায় বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কাের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। বেলারুশের এই প্রেসিডেন্ট দেশটির ক্ষমতায় আছেন প্রায় ২৬ বছর ধরে। নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে দেশে অস্থিরতা তৈরিতে পশ্চিমা বিশ্ব কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

৬৬ বছর বয়সী এই নেতা বেলারুশকে রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। দেশটির অধিকাংশ বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে অথবা নির্বাসনে আছেন। টানা পঞ্চমদিনের মতো মিনস্কে বিক্ষোভ হয়েছে, এতে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রাজধানী মিনস্কের প্রাণকেন্দ্র লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীরা অভিজাত আবাসিক এলাকা ড্রোজডির দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কা-সহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা এই অভিজাত এলাকায় বসবাস করেন। কিন্তু পুলিশ এই এলাকার সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়।

রাজধানী মিনস্ক ছাড়াও দেশটির ব্রেস্ট, গোমেল, মোগিলিয়েভ ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ করছেন বিরোধীরা।

গত ৯ আগস্ট বেলারুশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে লুকাশেঙ্কাে ক্ষমতায় এসেছেন বলে অভিযোগ করছেন বিরোধীরা। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকে লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ করছেন তারা।