সদ্য ঘোষিত যশোর আ’লীগে ঠাঁই পেয়েছে হাইব্রিড ও জামায়াতিরাও

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:14 PM, 09 August 2021

>>ত্যাগীদের অন্তর্ভূক্তির দাবি জানিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন
এবিসি নিউজ:সদ্য ঘোষিত জেলা আ’লীগের কমিটিতে হাইব্রিড, জামায়াতি ও অনুপ্রবেশকারীদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হলো সংবাদ সম্মেলনে। আজ সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি থেকে তাদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক ত্যাগী নেতাদের অন্তর্ভূক্তি করে পুনঃরায় কমিটি ঘোষণার দাবি করেন তারা। এরমধ্য দিয়ে ত্যাগীদের যেমন মূল্যায়ন করা হবে তেমিন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গতি আসবে-এমনটিই দাবি করে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বারবার অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বের করে দেয়ার কথা উল্লেখ করছেন কিন্তু ৩০ জুলাই ১৯ জন উপদেষ্টাসহ ৯৪ সদস্যের অনুমোদিত যশোর জেলা কমিটিতে অনুপ্রবেশকারীরা স্থান পেয়েছে। কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই যশোরে থাকে না ও জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পর্ক নেই।
তিনি ১২ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলেন, জেলা কমিটিতে উপ-দপ্তর সম্পাদক পদ পাওয়া ওহিদুল ইসলাম তরফদার ও কোষাধ্যক্ষ পদের মঈনুল আলম টুলু জামায়ত পরিবারের লোক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের পদ পাওয়া আশরাফুল কবির বিপুল ফারাজী ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে নিয়েছেন। সদস্য পদ পাওয়া অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন কোন দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি। অমিত কুমার বসু ও দেলোয়ার হোসেন দীপুর বাড়ি যশোরে হলেও থাকেন ঢাকায়। তারা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে কোন দিন ছিল না। এই দুইজনই হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার বন্ধু ও পরিচিত হওয়ায় সদস্য পদ বাগিয়ে নিয়েছেন মশিয়ার রহমান সাগর ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ পারভেজ নামে আরও দু’জন। জনৈক শীর্ষ নেতার বাড়ির কেয়ারটেকার আলামুন ইসলাম পিপুলকেও সদস্য করা হয়েছে । সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের ছেলে সামির ইসলাম পিয়াসও সদস্য হয়েছেন। ভায়রা ভাই শেখ আতিকুর বাবু শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং শ্যালক হুমায়ুন কবির কবু হয়েছেন সহসভাপতি। এরমধ্যে শ্যালক আগের কমিটিতে থাকলেও নতুন যুক্ত হয়েছেন ছেলে ও ভায়রা ভাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদ পাওয়া সাইফুদ্দিন সাইফ ১৯৮৭ সালের পর থেকে যশোরে থাকেন না। ঢাকা থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। বিতর্কিত গোলাম মোস্তফাকে করা হয়েছে সদস্য। এছাড়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে হেরে যাওয়া মেহেদী হাসান মিন্টুকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি করা হয়েছে। একইভাবে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে হেরে লুৎফুল কবির বিজু হয়েছেন জেলা কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক। কিন্তু দুই দশক শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকা অ্যাডভোকেট আবুল হোসেনের জায়গা হয়নি জেলা কমিটিতে। এভাবে রাজপথের ত্যাগী সাহসী সাবেক ছাত্র, যুব ও আওয়ামী লীগের নেতাদের কমিটিতে রাখা হয়নি। সংবাদ সম্মেলন থেকে অনুপ্রবেশকারী, হাইব্রিড ও জামায়াত পরিবারের লোকদের বাদ দিয়ে কমিটি পরিবর্তন করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আজাহার হোসেন স্বপন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, জেলা যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমানসহ সাবেক যুবলীগ, ছাত্রলীগের ১০/১২ জন নেতা। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, যারা পদ পেয়েছেন তারা যোগ্য। আর যারা পদ পাননি তারা যুবলীগের বিভিন্ন পদে আছেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে এখন জেলা কমিটিতে জায়গা করে না দিলে হাইব্রিডরা ওকে রাজনীতি করার সুযোগই দেবে না।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :