সকালে ভয়ে টিকা দিচ্ছিল না যে শিশু সেই দুপুরে হলো লাশ

35

>>যশোরের চৌগাছায় ইটভাটার বেপরোয়া ট্রাকে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানীর ঘটনা
চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের চৌগাছায় ইট ভাটার ট্রাকে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ওয়ালিদ হাসান (৯) নামে এক শিশু শিক্ষার্থী। সে উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে। সে ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের জাহাঙ্গীরপুর বকুলতলায় এঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত শিশুটিকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসা রাজু নামে এক ব্যক্তি জানান, বাচ্চাটি একটি সাইকেল চালিয়ে চৌগাছার দিকে আসছিল। ভাটার ট্রাকটি চৌগাছা থেকে ঝিকরগাছার দিকে যাওয়ার পথে তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি জানান, এ সময় তিনি জাহাঙ্গীরপুর বাজারে নিজের ফার্নিচারের দোকানে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকাতেই দেখেন ছেলেটি তার বাইসাইকেল নিয়ে পড়ে রয়েছে। একটি ট্রাক বিপরীত দিকে চলে যাচ্ছে। এসময় তিনি ও একজন পথচারী দ্রুত উদ্ধার করে বাচ্চাটিকে চৌগাছা হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির চাচা ইব্রাহিম হোসেন হাসপাতালে বিলাপ করছিলেন। তিনি জানান, সকালে তাকে হাম-রুবেলা টিকা দেয়ার কথা ছিল, সে টিকা দিতে ভয় পাচ্ছিল। আমি জোর করে টিকা দিয়ে নিয়ে আসলাম। এরপর ছেলেটি সাইকেল নিয়ে বের হয়। আর সেই ভাতিজাই দুপুর না হতে লাশ হয়ে গেল। দুই মেয়ের পর মায়ের কোলজুড়ে এসেছিল ওয়ালিদ। একমাত্র ছেলের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন শিশুটির বৃদ্ধ পিতা হবিবর রহমান।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিাল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি জানান, হাসপতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়। যখন হাসপাতাপালে আনা হয় তখন তার কোন অভিভাবকও ছিল না। দুজন পথচারী তাকে নিয়ে আসেন।
চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, চৌগাছায় ইটভাটার ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।