সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে-বিভাগীয় কমিশনার

21

বেনাপোল প্রতিনিধি:ভারত ফেরত যাত্রী ও পণ্যবহনকারী ট্রাক চালকদের মাধ্যমে দেশে করোনা সংক্রমণ রোধে বেনাপোল স্থলবন্দরে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, কাস্টম, বন্দর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, যেহেতু দেশে আবারো করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বাড়ছে, তাই সীমান্তে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। এক্ষেত্রে ভারতীয় ট্রাক চালকদের বন্দরের বাইরে অবাধ চলাফেরা বন্ধ, আবাসিক হোটেল কোয়ারেন্টাইনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার প্রচেষ্টায় মহামারী এই করোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারী নির্দেশনা মেনে সবার কাজ করার ফলে এখন পর্যন্ত ভারত ফেরত আক্রান্ত যাত্রীদের মাধ্যমে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট বা ব্লাক-হোয়াইট ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটেনি। তবে শেষ পর্যন্ত যাতে বাংলার মানুষকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারি সেবিষয়ে আরো সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহিন, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান, বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল, উপপরিচালক(ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার, যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সেলিম রেজা, জেলা পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলীফ রেজা, সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাসনা শারমিন মিথি, বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব, পোর্টথানা ওসি মামুন খান, সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী নেতা বকুল মাহাবুব, সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী সাজেদুর রহমান প্রমুখ।

যশোর জেলা সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহিন জানান, ভারতীয় ভেরিয়েন্ট রোধে গত ২৬ এপ্রিল থেকে ভারত ফেরত সব যাত্রীদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ২৬ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত এক মাসে ফিরেছেন ৩ হাজার ৭৭০ জন। ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন শেষে করোনা ঝুঁকি মুক্ত যাত্রীরা বাড়ি ফিরেছেন। যারা আক্রান্ত তারা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্বাবধানে কর্নো রেড জোনে চিকিৎসাধীন আছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৭৫জন। এদের মধ্যে এদিন মারা যায় ৪০ জন। প্রতিবেশি দেশ ভারতে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখের কাছাকাছি। প্রতিদিন আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে।