শেখ হাসিনাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা করে আসামিরা-আদালতের পর্যবেক্ষণ

23

রায়ের পর হাস্যোজ্জ্বল আসামিরা
এবিসি ডেস্ক:‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। এরই অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যার মাধ্যমে তারা দেশকে ধ্বংসের পরিকল্পনা করে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এলে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্নভাবে তাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে উল্লিখিত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তার সমাবেশস্থলে বোমা রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ে ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রায় পড়ার সময় পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।

আরও পড়ুন-১৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের নির্দেশ

পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, ‘মুফতি হান্নানের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী ২০০০ সালের জুলাই মাসে হুজির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বৈধ সরকারকে উৎখাতের জন্য শেখ হাসিনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ওই বছরই কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলে ও হেলিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। সমাবেশের আগে চায়ের দোকানে বদিউজ্জামানের মাধ্যমে পুলিশ তা উদ্ধার করে। বারবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথম ঘটনা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০০০ সালের ২০ জুলাই, দ্বিতীয় ঘটনা ২০০১ সালের খুলনায়, তৃতীয় ঘটনা ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে, চতুর্থ ঘটনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায়। এ কারণে হুজি ও জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে উল্লিখিত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতে পারে।’

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ছিল জঙ্গিদের

জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি’র মূল উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করা। তারা ওই সময়টাকে তাদের উপযুক্ত সময় বলে মনে করেছে। তাই ষড়যন্ত্র করে এই হামলার পরিকল্পনা নিয়েছিল তারা। আসামি পক্ষ তাদের যুক্তিতর্কে এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে বানানো ও মিথ্যা দাবি করে আসামিদের নির্দোষ দাবি করে। তবে আদালতে তাদের এই দাবি প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে বলেছেন বিচারক। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত দুটি বোমা সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করেছে। যার রিপোর্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার সাক্ষ্যে বলেছেন।

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও হাস্যোজ্জ্বল আসামিরা মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরও হাস্যোজ্জ্বল আসামিরা

আজ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ, মো. মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশিদ, মো. রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমুল, মো. তারেক, মো. ওয়াদুদ শেখ ওরফে গাজী খান, মো. আনিসুল ইসলাম, সারোয়ার হোসেন মিয়া, মাওলানা আমিরুল ইসলাম ওরফে জেন্নাত মুন্সী ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. আজিজুল হক ওরফে শাহনেওয়াজ, মো. লোকমান, মো. ইউসুফ ওরফে মোছহাব মোড়ল, মোছহাব হাসান ওরফে রাশু ও শেখ মো. এনামুল। এদের মধ্যে পলাতক রয়েছে মোছাহেব মোড়ল ওরফে আবু মুছা ও মোছাহেব হাসান ওরফে রাশু।

এই ১৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারক রায়ের আদেশে আরও উল্লেখ করেন, ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে কোনও অসুবিধা হলে প্রচলিত নিয়ম অনুসারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের ২১ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজ মাঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশ থেকে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। বোমা উদ্ধার হওয়ার পরদিন ওই স্থানেই শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনার পরে কোটালিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক নূর হোসেন বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি

২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর তৎকালীন সিআইডির এএসপি আব্দুল কাহার মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের জন্য আদেশ দেন। এরপর বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে আদালত মোট ৫০ সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

সূত্র:বাংলাট্রিবিউন