শুকিয়ে গেছে পাইকগাছায় মিষ্টি পুকুর:সুপেয় পানির তীব্র সংকট

10

>>জেলা পরিষদের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী
পাইকগাছা প্রতিনিধি:সংস্কারের অভাবে শুকিয়ে গেছে পাইকগাছা পৌর সদরের মধুমিতা পার্কের মিষ্টি পুকুর। পুকুরটি গত এক দশকের মধ্যে সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুম আসলেই শুকিয়ে যায়। এরফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। পুকুরটি খুলনা জেলা পরিষদের নিজস্ব সম্পত্তির উপর হওয়ায় এর মালিকানা কিংবা সংরক্ষণের দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ জেলা পরিষদের। পুকুরটি দ্রুত খনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জেলা পরিষদের আওতাধীন পুকুরটি এক সময় মধুমিতা পার্ক হিসেবে পরিচিত ছিল। এলাকার মানুষ চিত্তবিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতের। ওই পুকুরের পানি পৌর সদরসহ আশপাশ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করতো। এলাকার নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবার যেমন খাওয়ার পানি হিসেবে ব্যবহার করে, তেমনি অত্র এলাকার বেশির ভাগ টি স্টল গুলো অত্র পুকুরের পানি ব্যবহার করে। চা বিক্রেতা তুফান মন্ডল জানান, আমার মত এলাকার প্রায় প্রতিটি টি স্টল এই পুকুরের পানির উপর নির্ভরশীল। পুকুর পাড়ের ভেতরের অংশ দিয়ে গাইডওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও অর্ধেক করার পর বাকী অর্ধেক নির্মাণ কাজ আজও করা হয়নি। সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিদিন বাজারের শত শত মানুষ পুকুরের পাড়ে প্রস্রব করে নোংরা পরিবেশ তৈরি করছে।
এদিকে পুকুরটি সংরক্ষণের জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ জরুরী বলে মনে করেন কাউন্সিলর আসমা আহমেদ। গত এক দশকের মধ্যে সংস্কার না করায় প্রতিবছর শুকনো মৌসুম আসলেই পুকুরটি শুকিয়ে যায় বলে জানান বাতিখালী গ্রামের খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এবছর এক মাস আগেই পুকুরটি শুকিয়ে গেছে। ফলে সুপেয় পানি নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। পানি সরবরাহকারী শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা কয়েকজন প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে পানি সরবরাহ করে থাকি। এতে একদিকে যেমন মানুষ উপকৃত হয়, অপরদিকে আমাদের কয়েকজনের সংসার চলে ওই পুকুরের পানি সরবরাহ করে। পুকুরের পাশের বাড়ির মর্জিনা খাতুন জানান, আমার মতো অনেক পরিবার রয়েছে যাদের সুপেয় পানির একমাত্র মাধ্যম পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্রের মিষ্টি পুকুর।
পুকুরটির সংস্কার ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপু জানান, জেলা পরিষদের আওতাধীন সকল পুকুর সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে জেলা পরিষদের চুক্তি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় কাজ শুরু করেছে। কিন্তুপুকুরটি শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার সুপেয় পানির সংকট নিরসনে পুকুরটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। এজন্য আমি এলাকার জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপর নির্ভর না করে জেলা পরিষদের নিজস্ব উদ্যোগে পুকুরটি দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন করা হোক এমন প্রত্যাশা করেছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।