শালিখায় গমের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

18

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি:ধান চাষে শ্রমিক সংকট ও খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় শালিখা উপজেলার কৃষকরা বর্তমানে লাভজনক ফসল হিসেবে গম চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। বর্তমানে গমের বাজার ভালো থাকায় গম চাষে আশানুরুপ লাভের আশা করছেন তারা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গমের চাষ করা হয়েছে। এবার উপজেলার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বারি গম-২৮, ২৯, ৩২ ও ৩৩ জাতের অধিক ফলনশীল গমের চাষ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় নতুন জাতের বীজ দেয়া হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে। ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী বারী গম-৩৩ জাতের এ গমের ফলনও অনেক বেশি হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। লাভজনক এই গম চাষে চাষিদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত চাষিদের মাঝে উন্নত জাতের এই গম বীজ, সার, বালাইনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে উপজেলা কৃষি অফিস। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড শালিখা শাখার উদ্যোগে বেশ কিছু গ্রামে কৃষকদের নিয়ে মাঠ স্কুল করে হাতে কলমে গম চাষ পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে। উপজেলার কৃঞ্চপুর, শতখালী, ধনেশ্বরগাতী, থৈপাড়া, মানিক নগর, ভূলবাড়িয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায় ধানের মতই বিঘার পর বিঘা জমিতে সাদা গমে শিষে বাতাসে দোল দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সাদা সোনার এই ফষল আশানুরূপ হওয়ায় কৃষকের মুখেও দেখা যায় হাসির ঝিলিক। এ ব্যাপারে পোড়াগাছি গ্রামের গমচাষী সোহরাব হোসেন মন্ডল বলেন, আমি ৭বিঘা জমিতে ব্রি- ২৮ জাতের গম চাষ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে। দীঘলগ্রামের লিটন মন্ডল কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বারী-৩৩ জাতের গম চাষ করে অন্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি ফলন পেয়েছেন বলে জানান। চাষিরা তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, বাজারে উপযুক্ত দাম পেলে আমরা খুশী। এছাড়াও কোন বীজ কো¤পানি আমাদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করলে কো¤পানি ও কৃষক উভয়ই উপকৃত হবে