শার্শার সেই পিতা ভাইরাল

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:33 PM, 08 July 2021

>>ফাঁস হয়ে পড়েছে সরকারি নানা সহায়তার তথ্য
বেনাপোল প্রতিনিধি:যশোরের শার্শায় সন্তানের দুধ কেনার জন্য সাহায্য চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো সেই ভাইরাল হওয়া শিশুর পিতা শাহআলমকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছেন মানুষ। উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও বিভিন্ন মানুষ তাকে সহায়তা করেছেন।
গত বুধবার সামাজিক মাধ্যমে শাহআলমের একটি কান্নার ভিডিও প্রকাশ হয়। তিনি শিশুর দুধ কিনতে কারো কাছে সাহায্য চেয়ে পাচ্ছেন না বলে জানান।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, শাহআলম সাহায্য চেয়ে না পাওয়ার কথা যেটা প্রকাশ করেছেন সেটি সম্পূর্ণ সঠিক না। তাকে চাওয়া মাত্র সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া তিনি অসহায় বলে সরকারি ৪ সুবিধার আওতায় তার পরিবারকে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, শাহআলম তার কাছে বুধবার সকালে কষ্টের কথা বলতেই তাকে ব্যক্তিগত ভাবে দুধ কেনার টাকা দিয়েছি, আবারো প্রয়োজন হলে দেখা করতে বলা হয়েছে। অথচ সে বাইরে প্রকাশ করেছে কেউ তাকে সহযোগীতা করেনি, এটা দুঃখজনক।
শাহআলমের ভাগ্নে পাশের বাড়ির স্কুল শিক্ষক লিটন জানান, শাহআলম নিজের সিএনজি অটো চালায় এবং মাঝে মধ্যে অন্য কাজও করে। আমরা জানতাম সে মোটামুটি ভাল আছে। তবে তার ঘরে যে শিশু দুধের জন্য কষ্ট পাচ্ছে তা আমাদের একবারও জানায়নি। জানালে অবশ্যই সাধ্যমত চেষ্টা করা হতো।
শার্শার নিজামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আযাদ বলেন, তিনি যখন সামাজিক মাধ্যামে জানতে পারলেন শাহআলম কষ্টে আছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তিনি ব্যক্তিগত ভাবে তাকে সাহায্য করেছেন। তবে তিনি সহযোগীতা না চেয়ে আগে থেকে মানুষের কাছে যে অপপ্রচার করেছেন, এটা দুঃখ জনক।
চেয়ারম্যান আরো জানান, শাহআলম দরিদ্র বিবেচনা করে তাকে অনেক আগেই সরকারি ৪টি সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে জমি আছে ঘর নাই আওতায় সরকার শাহআলমকে গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছে। সে একজন ভিজিডি সুবিধা ভোগী। শাহআলমের ছেলেকে স্কুল থেকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে অর্থ সহয়তার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। শাহআলমের স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন অর্থ সহায়তায় কার্ডের জন্য গত মাসে ইউনিয়ন পরিষদে কাগজপত্র জমা নেয়া হয়েছে। তার মাকেও বিধবা ভাতার কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তার পরিবারের খোঁজ একেবারে কেউ নেয়না বলে যে তথ্য মানুষের কাছে প্রকাশ করা হয়েছে তা সত্য না। বর্তমানে তার কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগীতার আশ্বাসও তাকে দেয়া হয়েছে।

শাহআলম জানান, তার নিজের একটি সিএনজি অটো আছে। যা চালিয়ে তার সংসার চলে। চলমান লকডাউনে সিএনজি চলাচল বন্ধ। এরমধ্যে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবে বেশ টাকা খরচ হওয়ায় অর্থ কষ্ট চরমে ওঠে। এতে সন্তানের দুধ কিনতে বুধবার সকালে পরিচিত একজনের কাছে দুই হাজার টাকা ধার চাইলে একদিন পর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের কাছে কষ্টের কথা বললে তিনি এক কৌটা দুধের দাম দিয়ে প্রয়োজন হলে আবারো যোগাযোগ করতে বলেন। স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে তিনি কষ্টের কথা কোনদিন জানাননি। তিনি মনের দুঃখে কিছু কথা বানিয়ে বলেছেন। তবে এগুলো কেউ এভাবে ছড়াবে বুঝতে পারিনি। এখন তাকে বিভিন্ন ভাবে অনেকে সহয়াতা করেছেন। মোবাইলে বিকাশেও টাকা পাঠিয়েছে। এখন মোটামুটি ভাল আছি।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মীর আলিফ রেজা জানান, যখন আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন ভাবে তাকে সহায়তা করা হয়েছে। পরবর্তী কোন প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :