শরণখোলায় সিজারের সময় প্রসূতির জরায়ু কেটে ফেললেন ডাক্তার

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:53 PM, 04 July 2021

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:বাগেরহাটের শরণখোলায় ডা. মো. আরিফুল ইসলাম রাকিবের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় এক গৃহবধূকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রীতিমত ওই বধূর জরায়ু কেটে ফেলেছেন ডা. রাকিব। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানায়, সিজার করার সময়ে ডাক্তারের অবহেলার কারণে হালিমা বেগম (২৫) নামের রোগীর জরায়ু কেটে ফেলেছেন ডা. রাকিব। উপজেলার খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধু গত ২৮ জুন রায়েন্দা বাজারের নিউ-সুন্দরবন ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে এসে ভর্তি হন। পরে ওই ক্লিনিকের ডাক্তার রাকিব রোগীর স্বজনদের বলেন, রোগীকে দ্রুত সিজার করাতে হবে। যার ফলে ওই দিন রাতে গৃহবধূ হালিমার সিজার করেন শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ডা. আরিফুল ইসলাম রাকিব। এ সময় হালিমার জরায়ু কর্তনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ওই গৃহবধূর অবস্থা অনেকটা সংকটাপন্ন। হালিমর স্বামী বেল্লাল বেপারী বলেন, ‘একজন ডাক্তারের এমন অবহেলা মানা যায় না। জরায়ু কেটে ফেলে তার উপযুক্ত চিকিৎসা না দিয়ে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। গৃহবধূ হালিমা বেগম বলেন, জরায়ু কেটে ফেলার কথা ডাক্তার প্রথমে আমাদের বলেননি। অপারেশন হওয়ার ২/৩ দিন পরও যখন রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছিল না-তখন আমরা নার্সের মাধ্যমে জরায়ু কাটার বিষয়টি জানতে পারি। এ পর্যন্ত আমার শরীরে ৪/৫ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। এখনো সুস্থ হতে পারিনি। এছাড়া পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ডাক্তারের আমরা সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জরায়ু আগে থেকেই ফাঁটা ছিল। অথচ আলট্রাসনো রিপোর্টে এমন কিছু পাওয়া যায়নি। ডাক্তারের ভুলে আজ আমার জীবন ধ্বংসের দিকে বলেও অভিযোগ ওই গৃহবধূ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা. রাকিবের বিরদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন না। তিনি ডাক্তারী পাস করে সর্বপ্রথম নিজ এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। এলাকার প্রভাব খাঁটিয়ে ক্লিনিক প্রেমী হয়ে ওঠেন তিনি। সার্জারিতে খুব বেশি অভিজ্ঞ না হয়েও উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত সিজার করে যাচ্ছেন ওই চিকিৎসক। তাছাড়া হাসপাতালে ডিউটি থাকাকালীন সময়ে তিনি রোগী দেখেন ক্লিনিকে। ইতিপুর্বে তিনি হাসপাতাল সংলগ্ন নুর-মোহম্মদ টাওয়ারে অবস্থিত রায়েন্দা নাসিং হোম এন্ড ক্লিনিকে উপজেলার আমতলী ও বানিয়াখালী এলাকার ৩ গৃহবধূর সিজার করেন। পরে ওই রোগীর সেলাইয়ে জায়গায় বড় ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই রোগীর স্বজনা তাদের অন্যত্র নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করান। তবে, আজও তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। উপজেলার গোলবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক মেহেদী হাসান জানান, সম্প্রতি আমার ছেলেটির জ্বর আসে এবং খিচুনী শুরু হয়। তাই ২৮ জুন রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে আমি হাসপাতালে যাই। ওই সময় ডা. রাকিব কর্তব্যরত ছিলেন। তখন আমি তাকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি রায়েন্দা নার্সিং হোমে আছি। রোগী নিয়ে সেখানে আসেন। তাছাড়া জরুরী কোন রোগী হলে হাসপাতাল হতে আমাকে ফোন দিলে তার পর আমি আসব। পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে ছেলেকে নিয়ে খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতালে যেতে বাধ্য হই।
এদিকে ডা. আরিফুল ইসলাম রাকিব সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চিকিৎসা সেবা দিতে গেলে অনেক সময় ভুল ভ্রান্তি হয়। তবে গৃহবধূ হালিমার জরায়ু আগে থেকেই ফাঁটা ছিল। তার স্বার্থেই তা কেটে ফেলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই রোগীর ভয় পাওয়ার কিছুই নেই।

 

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :