শরণখোলায় ভুয়া ঋণের জালে দিনমজুরকে ফাঁসাতে ব্যস্ত কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা!

8

শরণখোলা প্রতিনিধি:বাগেরহাটের শরণখোলায় এক দিনমজুরকে ব্যাংক ঋণের জালে জড়াতে এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও সৎ ভাই নানা রকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিথ্যা ঋণের বোঝা চাপানোর ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে ওই দিনমজুর উপরিমহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত. চাঁন মিয়া আকনের প্রথম সংসারের ছেলে সহজ-সরল দিনমজুর শাহজাহান আকন (৬৩) এর নামে একাধিক ভুয়া দলিলের অনুকূলে যাচাই-বাঁচাই ছাড়াই ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ দেয় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক রায়েন্দা বাজার শাখা কর্তৃপক্ষ। অথচ এই ঋণ নেয়ার ঘটনাটি দিনমজুর শাহজাহান ও তার পরিবারসহ স্থানীয়দের কেউ-ই জানেন না। ঋণ বিতরণের প্রায় দেড় বছর পর ব্যাংক থেকে শাহজাহানের বাড়িতে একটি নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশে তাকে সুদে-আসলে তিন লাখ ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ পরিশোধ করার নির্দেশ দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই নোটিশ হাতে আসার পর দিনমজুর শাহজাহানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
শাজাহান বলেন, আমি গরীব মানুষ, আমার কোনো জমি নেই। দৈনিক কাজ করে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে। এতো টাকা ঋণ নিয়ে আমি কি করব ? তাছাড়া ঋণ নেয়া তো দূরের কথা, ব্যাংকের ওই অফিসটি কোথায় তাও আমি চিনি না। তবে, শুনেছি, আমার সতালো ভাই মাসুম আকন ব্যাংক হতে বহুবার ঋণ নিয়েছে। হয়তো আমাকে ফাঁসানোর জন্য সে অফিসারদের সাথে মিলেমিশে ষড়যন্ত্র করতে পারেন। তার স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, আমার স্বামী এতোগুলো টাকা ঋণ আনলো আর ব্যাংকের অফিসাররা কোন প্রকার তদন্ত না করেই সরকারি টাকা দিয়ে দিলো, তা কী করে হয় ? তিনি বলেন আমাদের জায়গা জমি নেই। তাছাড়া স্বামী ঋণ নিলে আমরা জানতে পারতাম।এসব ষড়যন্ত্র থেকে পরিত্রাণে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মেয়ে সোনিয়া আকতার বলেন, বাড়িতে নোটিশ আসার পর আমরা ব্যাংকে গিয়ে কাগজপত্র দেখতে চাই এবং একটি ফটো কপি দাবী করি কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এমন কোন নিয়ম ব্যাংক আইনে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আমার আব্বুর স্বাক্ষর ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জাল করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজসেবক ও আওয়ামীলীগ নেতা আলমগীর হোসেন তালুকদার বলেন, শাহজাহান গরীব মানুষ, তার কোন জমি নেই। সেক্ষেত্রে সরকারি লাখ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবশ্যই খোঁজ-খবর নেয়া উচিত ছিল। শাহজাহানের কাছে এখন টাকা দাবি করা মানেই তাকে হয়রানি করা ছাড়া আর কিছুই না-মন্তব্য করেন আ’লীগের এই নেতা।
অপরদিকে, নাম গোপন রাখার শর্তে কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ঋণ বিতরণের আগে সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজারসহ মাঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব হচ্ছে, ঋণ গ্রহীতার সকল তথ্য সংগ্রহ করা এবং ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্য কিংম্বা স্থানীয় গণ্যমান্য ২/১ জনকে স্বাক্ষী রেখে ঋণের টাকা বুঝিয়ে দেয়া। তবে, ঋণ গ্রহীতাকে এ্যাকাউন্ট পে-চেক দেয়া উত্তম। ওই দিনমজুরের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম উপেক্ষিত হলে সরকারি টাকার দায়ভার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার তৎকালীন কর্মকর্তাদের।
কৃষি ব্যাংক রায়েন্দা বাজার শাখার ম্যানেজার ইব্রাহীম হোসেন জানান, শাহজাহান যদি ঋণ নিয়ে না থাকেন তাহেল তাকেই প্রমাণ করতে হবে। তার লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবো। এছাড়া মাসুমসহ ঋণ বিতরণকারী তৎকালীন কর্মকর্তার কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে ওই তিন জনকে শীঘ্রই মুখোমুখি করা হবে।