শরণখোলায় ভিজিড়ির অর্থ ’হজম’ অভিযোগে তোলপাড়

9

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:বাগেরহাটের শরণখোলায় আট শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের জমা রাখা ভিজিড়ির অর্থ ফেরত না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এই খবরে ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছুঁটে যান শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী ককর্মকর্তা সরর্দার মোস্তফা শাহিন ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ আজমল হোসেন মুক্তা। এসময় তারা উপকার ভোগীদের সাথে আলাপ করে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পান ।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলার চার ইউনিয়নের জন্য তাৎক্ষণিক আলাদা আলাদা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমএম পারভেজকে ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়ন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলামকে ১নং ধান সাগর ইউনিয়ন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার বলকে ২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়ন ও পল্লীদারিদ্র কর্মকর্তা শিশির কুমারকে ৪নং সাউথখালী ইউনিয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।ওই কমিটিকে আগামী ১১ এপ্রিল (রবিবারের) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে ।
উপজেলা সদর ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নের মালিয়া রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা টুলু রানী ও জুথিকা রানীসহ হতদরিদ্র পরিবারের একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, আমরা (হতদরিদ্র) গত ২০১৯/২০২০ অর্থ বছরে ভিজিড়ি কার্ডের অনুকূলে রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুই বছর বিনামুল্যে ৩০ কেজি করে সরকারি চাল পাই এবং নিয়ম অনুসারে প্রত্যেক উপকার ভোগীদের মাসে ২০০ করে টাকা জমা রাখতে হয়। তার ধারাবাহিকতায় আমরা ওই সময় রায়েন্দা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৮১৫টি পরিবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলন ভাইয়ের কাছে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস হতে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসের এক হাজার টাকা করে মোট আট লক্ষাধিক টাকা জমা দিয়েছি এবং বাকি ১৯ মাসের টাকা স্থানীয় একটি বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখি। ইতিমধ্যে আমাদের ভিজিড়ি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় লাভসহ ব্যাংকের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেন কিন্তু চেয়ারম্যানের কাছে জমা রাখা টাকাগুলো এ পর্যন্ত আমরা ফেরত পাইনি। তাই বিষয়টি ইউএনও স্যারসহ অন্যদের কাছে জানিয়েছি। আমাদের অনেক কষ্টের টাকা ফেরত পেতে চাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, হতদরিদ্র পরিবারগুলোর ভিজিড়ির জমাকৃত সম্পূর্ণ টাকা আমানত হিসেবে আমার কাছে জমা আছে এবং ইতিমধ্যে মাস্টার রোল তৈরি করা হয়েছে। শীঘ্রই সকল উপকার ভোগীর টাকা বুঝিয়ে দেয়া হবে। তাছাড়া দরিদ্রদের কয়েকজন বিষয়টি না বুঝে আমার ব্যাপারে অভিযোগ তুলেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান-রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট হতদরিদ্রদের জমা রাখা টাকা তৎকালীন ভিজিড়ি উপকার ভোগীদের মাঝে এখনো কেন ফেরত দেয়া হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার কারণ জানতে ইতিমধ্যে রায়েন্দা ইউনিয়নে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া এ ধরণের অনিয়ম অন্য-অন্য ইউনিয়নে রয়েছে কিনা তা জানতেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকল ইউনিয়নে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়িত্ব প্রাপ্তদের চলতি মাসের ১১ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন চেয়ারম্যান অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।