শরণখোলায় বাঁধ ভেঙ্গে ৭ গ্রামের ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি

24

>>দেখা দিয়েছে খাবারসহ বিশুদ্ধ পানির সংকট
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাগর উত্তাল হওয়ায় জোয়ারের চাপে উপকূলীয় অঞ্চল বাগেরহাটের শরণখোলায় বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী ৩৫/১ পোল্ডারের রিং-বাঁধ ভেঙ্গে কমপক্ষে সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বাঁধের ভিতরে ও বাইরে থাকা প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। যার ফলে খাবারসহ বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। আরও খবর>>বাগেরহাটে জলোচ্ছ্বাসে শিশুর মৃত্যু:ভেসে আসলো মৃত হরিণ ও ডলমিন

স্থানীয়রা জানান, ২৫ মে (মঙ্গলবার) থেকে বলেশ্বর নদী সংলগ্ন এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করে এবং ২৬ মে (বুধবার) সকাল থেকে উপজেলা জুড়ে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিসহ ঝড় হাওয়ার পাশাপাশি নদীর পানি বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে একই দিন দুপুরে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, তেরাবেকা ও চালিতাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা রোকা তালুকদার, গনি হাওলাদার ও মানিক তালুকদারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে রিং-বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে উপজেলার বগী, খুরিয়াখালী, তেরাবেকা, চালিতাবুনিয়া, চাল-রায়েন্দা, সোনাতলা, রসুলপুর, রাজৈর বান্দাঘাটা ও রায়েন্দা বাজারসহ ৬/৭টি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে বাঁধের উভয় পার্শে¦র প্রায় তিন হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। আরও খবর>>সাতক্ষীরার শতাধিক গ্রাম ও চিংড়ী ঘের প্লাবিত:যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন

উপজেলার শরণখোলা বাজারের ব্যবসায়ী জালাল আহম্মেদ বলেন, জোয়ারের চাপে হঠাৎ করে রিং-বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে তার তিনটি মৎস্য ঘের চোখের সামনে মুহুর্তে তলিয়ে যায়। এতে তার কয়েক লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া প্লাবিত হওয়া পরিবার গুলোতে রান্না-বান্না করার কোন সুযোগ না থাকায় খাবারসহ বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা তাদের গবাদি পশুগুলো নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় জনসাধারণের চরম ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তাদের মাঝে কিছু খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাঁধের উভয় পার্শের সহ¯্রাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।