শরণখোলায় খেয়া পারাপারে আদায় করা হচ্ছে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা

16

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:আব্দুল বারেক হাওলাদার (৫২), পেশায় একজন হকার। জীবন-জীবিকার তাগিদে করোনা মহামারীকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে তাকে নেমে পড়তে হয় রাস্তায়। বিভিন্ন পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়াতে হয় জেলার নানা অলিগলিতে। যার ধারাবাহিকতায় ২৪ এপ্রিল (শনিবার) বেলা (অনুমান) ১২টায় তিনি শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারে আসার উদ্দেশ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলা সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে যাত্রী পারাপারের কাজে নিয়োজিত বড় মাছুয়া-রায়েন্দা খেয়ার একটি ট্রলারে ওঠেন। এ সময় খেয়া কর্তৃপক্ষ তার কাছে ৪শ’ টাকা ভাড়া দাবি করে। পরে ওই ট্রলারের টাকা আদায়কারী ব্যক্তির হাতে পায়ে ধরে ৩শ’ টাকা দিয়ে বড়-মাছুয়া হতে রায়েন্দা বাজারে আসেন তিনি। কেবল মাত্র হকার আব্দুল বারেক নয়, ট্রলারের সকল যাত্রী একই অভিযোগ করেন খেয়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। সেবার নামে ইজারাদারের (কর্তৃপক্ষের) এমন জুলুমের বিষয়টি বারেক ও অন্যান্য যাত্রীরা শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তাসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের অবহিত করার পর সেখানে ছুঁটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন। সাধারণ যাত্রীদের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সত্যতা পান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, ওই ইজাদার তার কর্মচারীদের মাধ্যমে নিয়মের চেয়ে বহুগুন ভাড়া বেশি নিচ্ছেন। বিষয়টি আমি ইতিমধ্যে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার স্যারকে অবহিত করেছি। লিখিত ভাবে জানানোর পর ইজারাদার ছালামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বিভাগীয় কমিশন। তাছাড়া অতিরিক্ত ট্রলার ভাড়া আদায়ের ব্যাখা চেয়ে ইতিমধ্যে ছালামের বিরুদ্ধে একটি নোটিশ জারী করা হয়েছে এবং হয়রানির হাত থেকে জন-সাধারণকে মুক্ত করতে শীঘ্রই ঘাট সংশ্লিষ্ট এলাকায় রেইট চার্ট (মুল্য) তালিকা ঝুলিয়ে দেয়া হবে।
অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, বাগেরহাটের শরণখোলা মঠবাড়িয়া পিরোজপুর বরিশাল পাথরঘাটা বরগুনা পটুয়াখালী ও ভোলাসহ উপকুলীয় এলাকায় যাতায়াতের স্বার্থে স্বাধীনতার পর থেকে বলেশ্বর নদীতে খেয়া চালু করে তৎকালীন সরকার এবং দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সরকারি সেই সেবা সাধারণ মানুষের জন্য অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, মঠবাড়িয়া উপজেলার ১১নং বড়-মাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল (চেয়ারম্যান) কাইয়ুম হাওলাদার বলেন, সরকার নির্ধারিত রেইট অনুসারে মাত্র পাঁচ টাকায় যুগ যুগ ধরে এই খেয়া পারা-পার হচ্ছে মানুষ। কিন্তু চলতি বছর শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা এলাকার বাসিন্দা (বিএনপি) নেতা আব্দুস ছালাম চৌকিদার জালিয়াতির মাধ্যমে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে ৪১ লাখ ৫০ হাজার ৫শ’ টাকায় ইজারা নিয়ে আসেন। তারপর থেকে মানুষের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতে শুরু হয়েছে। এছাড়া করোনা মহামারীর অজুহাত দেখিয়ে তার লোকজনের মাধ্যমে ৫ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে প্রত্যেক যাত্রীকে জিম্মি করে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ অবস্থায় মঠবাড়িয়াবাসী কঠোর আন্দোলনে দিতে বাধ্য হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারী দেন।