শরণখোলায় কোয়াটার ভাড়া জটিলতায় ৩ কর্মকর্তার বেতন বন্ধ

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:57 PM, 07 March 2019

শরণখোলা সংবাদদাতা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক কোয়াটারের (বাসা) ভাড়া পরিশোধ না করায় বাগেরহাটের শরণখোলায় ৩ কর্মকর্তার বেতন বন্ধ করেছে উপজেলা হিসাব বিভাগ।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলা প্রশাসন ক্যাম্পাসের সরকারি আবাসিক কোয়াটার বাসা গুলোতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০/২৫ জন কর্মকর্তা, কর্মচারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে তাদের পরিবার পরিজনসহ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। পড়ুন>>>শিশুছাত্রকে শারীরিক মিলনে বাধ্য করে বিপাকে শিক্ষিকা

নিয়মানুযায়ী ওই বাসার ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে বেতনের অংশ থেকে কর্তনের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ”ত্বরে বসবাসরত বিভিন্ন দপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা, কর্মচারি সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বাসা ভাড়া পরিশোধ না করায় রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সরকারি কোয়াটারে বসবাস করেও যথাযথ নিয়মে বাসা ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগে সম্প্রতি উপজেলা হিসাব বিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী, কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান খানের মাসিক বেতনে এক আপত্তি প্রদান করেন। যার ফলে ওই তিন কর্মকর্তার বেতন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন পাড়ায় নানা আলোচনা, সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই ৩ কর্মকর্তার দাবি তারা সঠিক ভাবে প্রতি মাসে বাসা ভাড়ার অর্থ ইউডি ৪২ নং হিসাবে স্থানীয় একটি ব্যাংকে জমা করে দিচ্ছেন। যার রিসিভ তাদের কাছে রয়েছে। অপরদিকে, আবাসিক কোয়াটার গুলোতে বসবাসরত অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী বাসা ভাড়া দিতে হলে প্রতি মাসে ১৫/১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। জরাজীর্ণ ভবন গুলোর ভাড়া এত টাকা দিলে তা হবে অতিরিক্ত। বিষয়টি নিয়ে ২০১৬ সালে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে আবাসিক ভবন কোয়াটার গুলোর (বাসার) ভাড়া নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তাদের বাসা ভাড়া ৪ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেনীর ২ হাজার ৫’শ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য ২ হাজার টাকা করে ভাড়া নির্ধারন করা হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী তারা বাসা ভাড়া পরিশোধ করছেন। এছাড়া ভবন গুলো মেরামতের নামে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও সংশ্লিষ্টদের দুর্বল তদারকির কারনে কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও পুরনো চেহারায় দেখা যায় ভবনগুলো। সামান্য বৃষ্টি হলে অনেক ভবন থেকে পানি পড়ে। কোন কোন রুমে আবার ফাঁটল ধরেছে। তবে উপজেলা হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হাসান বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগদান করে জানতে পারেন, সরাকরী বাসায় বসবাস করেও অনেকে নিয়ম অনুযায়ী তাদের বেতনের অংশ থেকে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করছেন না। তাই খোঁজখরব নিয়ে প্রাথমিক ভাবে ওই ৩ কর্মকর্তার বিলে আপত্তি তুলেছেন। যথাযথ নিয়মে ওই কর্মকর্তারা বাসা ভাড়া পরিশোধ করলে আপত্তি তুলে নেয়া হবে।

পড়ুন>>>নড়াইলে হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই

এছাড়া উপজেলা পরিষদের সভা ডেকে বাসা ভাড়া নির্ধারন করার বিষয়টি সরকারী নীতি লংঘনের সামিল। কোন আদেশ ছাড়া বাসা ভাড়া কমানোর কিংবা বাড়ানোর এখতিয়ার কারও নেই। যদি কেউ নিজস্ব বিধান তৈরি করে বাসা ভাড়া প্রদান করেন তাহেল রাজস্ব বঞ্চিত হবে সরকার। এ বিষয়ে বাসা বরাদ্দ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ১৯৮০ দশকের নির্মিত ওই ভবন গুলো মান সম্মত না হওয়ায় পরিষদের এক সভায় ইতোপূর্বে বাসা ভাড়া নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে। সেই অনুপাতে বসবাসরত বাসিন্দারা ব্যাংকের ইউডি ৪২ নং হিসাবে ভাড়ার টাকা জমা করে আসছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, একজন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারি তাদের বেতনের অংশ থেকে বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে গেলে তাদের বেতনের টাকা থেকে ১৬/১৭ হাজার টাকা চলে যাবে। তাতে অনেকই সরকারী কোয়াটারে থাকার আগ্রহ হারাবে এবং প্রশাসন পাড়া ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারেন। সরকারী বিধান পালন করতে গেলে সরকারী বাসা কেউ বরাদ্দ নিতে রাজী হবেন না। সেক্ষেত্রে কোয়াটার গুলো ফাঁকা পড়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশী। তবে, সামান্য জটিলতার বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই বাসা বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :