শরণখোলায় অনন্ত ৭০টি বাঘ হত্যার আসামি হাবিব গ্রেফতার

26

শরণখোলা(বাগেরহাট) প্রতিনিধি:বাগেরহাটের শরণখোলায় বাঘ হাবিব (৫০) নামে পরিচিতি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাঘ শিকার করাই তার নেশা হওয়ায় এলাকায় তিনি বাঘ হাবিব নামে সর্বাধিক পরিচিত। গত ২০ বছরে বিভিন্ন কায়দায় সুন্দরবনের প্রায় ৭০টি বাঘ হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। এই মামলার বোঝা মাথায় নিয়েই সে প্রাণী হত্যা অব্যাহত রেখেছিল। শিকারের নেশা থেকে তাকে ফেরাতে পারেনি কেউ। অবশেষে (শুক্রবার) রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হাবিব দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে (শুক্রবার) রাতে তাকে উপজেলার মধ্য সোনাতলা গ্রামের রফিকুলের বাড়ি হতে আটক করা হয়। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের মধ্য সোনাতলা এলাকার বাসিন্দা সাবেক বনদস্যু কদম আলী তালুকদারের ছেলে হাবিব। ছোটবেলা থেকে সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন হাবিব। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও বন্যপ্রাণী শিকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। তার ছেলে হাসান (২০) ও জামাই মিজান (২৫) এর অন্যতম। তাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। অপরদিকে, ৭০টি বাঘ হত্যার হোতা হাবিবের নামে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বছরের বেশির ভাগ সময় সুন্দবরেনই কাটান হাবিব।

এ বিষয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার এক (সিপিজি) সদস্য বলেন, সুন্দরবনের বাঘ-হরিণ শিকার করা হাবিবের পেশা। প্রায় বিশ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে। তার নামে অনেক মামলা রয়েছে। কোনো ভাবে তাকে শিকার থেকে ফেরানো যাচ্ছে না এবং তার সহযোগী হিসেবে রয়েছে ছেলে ও জামাই। তার বাবাও এক সময় সুন্দবনের দস্যু ছিলেন। সুন্দরবন সহব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সহ-সভাপতি এম ওয়াদুদ আকন বলেন, হাবিব খুবই ভয়ঙ্কর লোক। তার গোটা পরিবার এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, বাঘ শিকারি হাবিব বন বিভাগ ও পুলিশের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড। তার নামে ৮টি মামলা রয়েছে। এর মধে বন বিভাগের সাতটি এবং আদালতে একটি। শরণখোলা থানার (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, হাবিবের নামে থানায় তিন ওয়ারেন্ট ছিল। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গোপন সুত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।