লালমনিরহাটে ডাক্তারদের সরকারি গাড়িতে ব্যক্তিগত ভ্রমন থামছে না

30

চাকরির বিধি-বিধান না মেনে সরকারি জিপ গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে নিয়ে যাওয়ায় লালমনিরহাট স্বাস্থ্য বিভাগ জুড়ে নানা আলোচনার তৈরি হয়েছে।পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুল হক সরকারি গাড়ি নিয়ে গত ৫ দিন যাবৎ ঢাকায় রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডা. মোহাম্মদ শামসুল হক (পরিচিতি নম্বর ১৩২৯৭৬) গত ১ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পার-২ অধিশাখার উপ-সচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত সিনিয়র স্কেলে পদোন্নতি পেয়ে গত ৮ মার্চ এ হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদে যোগদান করেন। যার স্মারক নম্বর ৪৫.১৪৩.০৮০.০৭.০০.০০১.২০২০-১৪১।

শুধুমাত্র সরকারি ও হাসপাতালের কাজে ব্যবহারে তার জন্য বরাদ্দ টয়েটো র‍্যাব ফোর (প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা দামের) গাড়ি নিয়ে ১০ এপ্রিল ঢাকায় যান। পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাড়ির চালক রুবেল হোসেন বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বলেন, ‘আমি গাড়িচালক। আমার স্যার রাত ১২টায় ডাকলেও আমাকে যেতে হবে। সব কিছু স্যারের কাছে জানলে ভাল হয়। স্যার যেখানে আছেন, সেখান থেকে আমি দূরে আছি। সেখানে থাকার জায়গা নেই। স্যারকে রেখে রাতে অন্য জায়গায় থাকি।’

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আফসানা আফরোজ বলেন, ‘গত ১০ এপ্রিল তিন দিনের ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুল হক স্যার। তিনি করোনার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে ফেরার কথা রয়েছে।’

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মুলেন্দু রায় বলেন, ‘পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গত ১০ এপ্রিল তিন দিনের ছুটিতে ঢাকায় নিজ বাসায় গেছেন। লালমনিরহাট জেলার বাইরে সরকারি গাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাকে কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদি তিনি বিধিবহির্ভূত এ ধরনের কাজ করেন তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, ১১ ডিসেম্বর সেই গাড়িতে করে আদিতমারী থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে বাংলাবান্ধায় পিকনিকে গিয়েছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কম্প্লেক্সের ৪ জন ডাক্তার। পথিমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ভ্যান গাড়িকে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। ভ্যানচালককে ঠাকুরগাও হাসপাতাল থেকে রেফার করে রংপুরে পাঠালে তার মৃত্যু হয়। নিহত ভ্যানচালক ফজের আলী দেবিগঞ্চের বামুনি গ্রামের হাসু মিয়ার ছেলে।

গাড়িটিতে সেদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ, ডা. স্নিগ্ধা দেবনাথ, ডা. বিশ্বজীৎ কুণ্ডু ও ডেন্টাল সার্জন ছিলেন। ২০ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর ২১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের বোদা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাটি ১১ তারিখে ঘটেছে। এরপর সিএস অফিস থেকে ৪ ডাক্তারকে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ করলেও তারা বহাল তবিয়তে আছেন।